১৬ মে, ১৯৭২ তারিখে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৪ থেকে ২০০২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/১০২ লাভ করেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ও শতকধারী সেলিম মালিককে (১৪০) কট এন্ড বোল্ডে বিদেয় করে একমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ১২ রানে পরাভূত হয়।
একই সফরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রশীদ লতিফকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা বোলিং ছিল ১/৩৭। খেলায় তিনি ১/৩৭ ও ৩/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শেন থমসন ও ব্রায়ান ইয়ংয়ের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে এ সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। খেলায় তিনি ১৭ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেকধারী স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের অসাধারণ সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনায় নেমে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখলেও পরবর্তীতে পর্দার অন্তরালে চলে যেতে বাধ্য হন। ওডিআইয়ে কিউই বোলারদের মধ্যে তৎকালীন সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে উইলস বিশ্ব সিরিজ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫/২২ লাভ করেন।
১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৯৪ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রাহাম গুচের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে সিআর ম্যাথুজকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৪৭। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৩/৫৭ ও ৫/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্রেগ ম্যাথুজের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। বল হাতে নিয়ে সায়মন ডৌলের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দারুণ বোলিং করে প্রথম টেস্ট জয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ২৭* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৮ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৮ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত সিরিজে তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার বোলিং করার সুযোগ পেয়ে ৩০ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর ব্যাট হাতে ৮ রান তুলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায় তাঁর দল।
এরপর থেকে ক্রমাগত বিভিন্ন দল নির্বাচকমণ্ডলীর কোপানলে পড়েন। পরবর্তীতে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র আবির্ভাবে তাঁর অংশগ্রহণ আরও সীমিত হতে থাকে। তাসত্ত্বেও ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পুণরুজ্জ্বীবন ঘটান ও বিদেশ সফরে বিবেচনায় আসেন। ২০০২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সর্বশেষ সফর করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। ২০০৫ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
