|

অপূর্ব সেনগুপ্তা

৩ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাধর্মী অল-রাউন্ডার ছিলেন। তাসত্ত্বেও, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে অন্যতম বিভ্রান্তিকর খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সার্ভিসেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-এর মাঝামাঝি সময়ে সার্ভিসেস ক্রিকেট দল থেকে আসা বেশ কয়েকজন টেস্ট ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। এ দশকের শেষদিকে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিমু অধিকারী’র নেতৃত্বে উপর্যুপরী দুইবার দলকে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, লেগ-স্পিনার ও স্লিপ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন তিনি। তবে, ক্রিকেট মাঠের তুলনায় পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে – সম্মুখ রণাঙ্গনেই তাঁকে অধিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

শারীরিকভাবে সচেতনতার পরিচয় দেন। ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স তাঁর ‘হুজ হু অব টেস্ট ক্রিকেটার্সে’ তাঁকে অত্যন্ত চমৎকার অল-রাউন্ডার, ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, লেগ-ব্রেকসহ গুগলি বোলার ও স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

তাসত্ত্বেও, রঞ্জী ট্রফিতে খেলেছিলেন। ২৬ গড়ে ১৬৯৫ রান ও ৩১ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। এ সকল পরিসংখ্যান তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও প্রথম দুই মৌসুমেই তিনি ৪২ গড়ে ৬৭৬ রান ও ২৭ গড়ে ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমের ঘরোয়া আসরে দারুণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। সেমি-ফাইনালে বোম্বের বিপক্ষে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

১৯৫৯ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। এনডিএ ক্যাডেট হিসেবে থাকাকালীন ৩৫ ও ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে তাঁকে রয় গিলক্রিস্ট, গ্যারি সোবার্স, ল্যান্স গিবস প্রমূখের বল মোকাবেলা করতে হয়েছিল ও তিনি দলকে পরাজয়বরণ করা থেকে রক্ষা করেন।

ঐ সিরিজটি ‘চার অধিনায়কের সিরিজ’রূপে পরিচিতি পায়। টেস্ট শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে বিনু মানকড়কে অধিনায়কের দায়িত্ব প্রদানের পর ২১ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে কিশোর অবস্থায় সদ্য যোগ দেন। তবে, রয় গিলক্রিস্টওয়েস হলের দাপটে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি তিনি। মাত্র ১ ও ৮ রান তুলতে পেরেছিলেন। সফরকারীরা ২৯৫ রানে জয়ে পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সামরিক দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। তিন তারকাবিশিষ্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদবী ধারন করেন। ১৬শ’ লাইট ক্যাভালরি এন্ড ডিজিএমএফ থেকে কর্নেল পদবী নিয়ে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডিফেন্স অ্যাটেশা হিসেবে কাজ করেন।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে ৭৪ বছর ৪২ দিন বয়সে নয়ডায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    ফ্রাঙ্ক পেন

    ৭ মার্চ, ১৮৫১ তারিখে লন্ডনের দ্য সিডার্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সময়কালে কেন্টের অন্যতম খ্যাতনামা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।…

  • | |

    টিম কার্টিস

    ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কেন্টের চিজলহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রয়্যাল গ্রামার স্কুল ওরচেস্টারে অধ্যয়নের পর ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • | |

    কার্ল রেকেম্যান

    ৩ জুন, ১৯৬০ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ওন্ডাই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘মক্কা’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। নিজের সময়কালে অন্যতম কার্যকর ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ব্যাটসম্যানদের…

  • |

    গাই ডি অলউইস

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিছুটা দীর্ঘদেহী ও চটপটে উইকেট-রক্ষক হিসেবে স্ট্যাম্পের…

  • | |

    ঋষিকেশ কানিতকর

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমন্ত কানিতকর ভারত ও মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ভ্রাতা আদিত্য গল্ফ এবং বৌমা ও শ্যালিকা রাধিকা তুলপুলে টেনিস খেলোয়াড়…

  • | |

    ক্রিস কাগেলিন

    ১০ মে, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত তিনি। অনেকাংশে সীমিত-ওভারের উপযোগী ছিলেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতেন। অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দারুণ ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম…