|

কানবর রাই সিং

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের দ্বারকাটি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

শিখ পরিবারের সন্তান ছিলেন। লাহোরের এইচিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। জন্মগতভাবেই প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী ছিলেন। ভীতিহীন, আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। প্রায়শঃই বোলিং আক্রমণে অংশ নিতেন। ৩৩.৩৩ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে পাতিয়ালার মহারাজা একাদশ, সার্ভিসেস ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

দুই দশকব্যাপী খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৩৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ২২টি খেলাই রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। শুরুতে সাউদার্ন পাঞ্জাব ও পরবর্তীতে সার্ভিসেস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। চার শতক সহযোগে ৩০.১৩ গড়ে ১৭৭৮ রান তুলেন। বোম্বে পেন্টাগুলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলায় ২৬ ও ৫৭ রান তুলেছিলেন এবং আনোয়ার হোসেনের সাথে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় সাউদার্ন পাঞ্জাব দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান সার্ভিসেস দল ভারত সফরে আসলে তিনি নয় নম্বর অবস্থানে খেলেন। ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। পরের দুই ইনিংস দিল্লি ও নর্দার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে যথাক্রমে ১৩২ ও ১১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

পরের মৌসুমে পাতিয়ালার মহারাজা একাদশের সদস্যরূপে বিজয় মার্চেন্ট একাদশের বিপক্ষে বড় ধরনের ইনিংস খেলেন। মার্চেন্ট একাদশের ৩৪৮ রানের জবাবে কোনক্রমে পাতিয়ালা একাদশ ১৯৯ রান তুলে ফলো-অন এড়াতে সক্ষম হয়। ৪২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ৯২/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। চান্দু সরবতে’র সাথে ১৫৬ রানের জুটি গড়েন। সপ্তম উইকেটে সিএস নায়ড়ু’র সাথে ৭৯ ও অষ্টম উইকেটে ইব্রাহিম মাকা’র সাথে আরও ৪৬ রানের জুটি গড়েন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ইমতিয়াজ আহমেদের বলে মানকড় কট নিলে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৫৮ রান তুলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।

ঐ ইনিংসের কারণে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। উইজডেনে তাঁর এ ইনিংস সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, সম্ভবতঃ অস্ট্রেলিয়া সফরের পূর্বক্ষণে তাঁকে দলে নেয়া হয়। পাশাপাশি বলা হয় যে, মহারাজার কাকাতো ভাই হলেও দলে অন্তর্ভুক্তিতে এ পরিচিতি কোন সহায়তা করেনি। অস্ট্রেলিয়া সফরের পূর্বেকার চার মৌসুমে ৩টি শতরানের ইনিংস খেলেন। ৫১.০৮ গড়ে ৬৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অপরাপর মৌসুমগুলোয় ২৪.২২ গড়ে ১১১৪ রান পেয়েছিলেন। ভারত দলের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

১৯৪৮ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে অনেকটা বিস্ময়করভাবে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এ সফরেই তিনি তাঁর একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে খোকন সেনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ২৩৩ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। এরফলে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্নের সৃষ্টি করে। পাতিয়ালা আর্মির ক্যাপ্টেন ও পরবর্তীতে সিকলি রেজিম্যান্টে মেজর পদবীধারী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কমলা দেবী নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে উত্তরখণ্ডের দেরাদুনে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর ২৬১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    রশীদ লতিফ

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে মুহাজির পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উইকেট-রক্ষণ ও ডানহাতে ব্যাটিং করে উভয় বিভাগেই সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে এক দশকের অধিক সময় পাকিস্তান…

  • |

    অ্যালেক্স হেলস

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে মিডলসেক্সের হিলিংডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। শীর্ষসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। লিস্ট ও গ্যারি হেলস দম্পতির সন্তান তিনি। ওয়েস্টব্রুক হে স্কুল ও বাকিংহামশায়ারের চেশাম…

  • |

    মাসুদ আনোয়ার

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, লাহোর, মুলতান,…

  • | | | |

    নজর মোহাম্মদ

    ৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে…

  • |

    নাথান অ্যাসলে

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার…

  • |

    ট্রেন্ট বোল্ট

    ২২ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে রোতোরুয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে সুইং বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শনসহ শেষেরদিকের ওভারগুলো পেস ও নিশানা বরাবর বল ফেলে চাতুর্য্যতার পরিচয় দিয়েছেন। ওয়াসিম আকরামের সাফল্যে উজ্জ্বীবিত…