২৫ নভেম্বর, ১৯১৫ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হিন্ডমার্শ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটারের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। জানুয়ারি, ১৯৩১ সালে অ্যাডিলেডে এ-স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন। এরফলে, ১৫ বছর ৬৭ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবারের মতো খেলেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। অফ-সাইডে খেলতে অধিক পারদর্শী ছিলেন। বোলিং আক্রমণেই অধিক পছন্দ করতেন। ধীর গতিসম্পন্ন বোলারদের বিপক্ষে চমৎকারভাবে পদসঞ্চালনে আক্রমণধর্মী খেলা উপহার দিতেন। ওয়েস্ট টরেন্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৩৫-৩৬ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সময়কালে অনেকের ন্যায় তাঁরও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন বাঁধাগ্রস্ত হয়। এ পর্যায়ে তিনি রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের সাথে যুক্ত ছিলেন। অনবদ্য সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম ও শেষ খেলায় শতক হাঁকিয়েছিলেন।
১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে নিজ দেশে নরম্যান ইয়ার্ডলি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩০* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
এরপর, ভারতের বিপক্ষে আরও দুই টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ২৩৩ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয়’ দলের অন্যতম জনপ্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে, দলীয়সঙ্গীদের একাধিপত্যের কারণে চারজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে এ সফরের কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগই পাননি। এছাড়াও, ১৯৪৬ সালে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেছিলেন। সব মিলিয়ে ৯৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। নোরা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির লিনেট হলেট নাম্নী এক কন্যা ছিল। শেষ বয়সে বাত রোগে ভুগছিলেন। মার্চ, ২০০৮ সালে বিল ব্রাউনের মৃত্যুর পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। ২৪ মার্চ, ২০১০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের নার্সিং হোমে ৯৪ বছর ১১৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ পর্যায়ে তিনি ডন ব্র্যাডম্যানের ‘অপরাজেয় দলের’ সর্বশেষ জীবিত চারজন সদস্যের অন্যতম ছিলেন।
