| |

গ্রায়েম হোল

৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কনকর্ড ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। এরপর, নর্থ সিডনি বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। এ সময়ে তিনি প্রথম একাদশের অধিনায়কত্ব করেছিলেন। ঊনিশ বছর বয়সে সিডনি গ্রেড ক্রিকেটে সেন্ট জর্জ ক্লাবের পক্ষে খেলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে শেফিল্ড শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। ব্যাট হাতে ২৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করলেও ৬/৬১ লাভ করে দলের ১৯৬ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে এক মৌসুম খেলার পর সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। বেশ কয়েকটি ডিস্ট্রিক্ট ক্লাবের খেলার পর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেড ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়া সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৮ ও ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয় পেয়েও সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৩ সালের গ্রীষ্মে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখী হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১২৮ রানে পরাজয়বরণ করলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্টে নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৫.৪৫ গড়ে ৭৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪২.০০ গড়ে তিন উইকেট দখলসহ ২১ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ক্যাচ তালুবন্দী করাকালীন আঘাত পান। এরফলে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অকালসমাপ্তি ঘটে।

অপরিমেয় প্রতিভা থাকা স্বত্ত্বেও নিজেকে প্রকাশ করতে পারেননি। ছন্দহীনতার কবলে পড়ার পাশাপাশি ক্রমাগত আঘাতের কারণে ক্রিকেট জগৎ থেকে তাঁকে সড়ে যেতে হয়। ক্রিকেটের বাইরে বেসবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। মোসম্যান ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বেসবলে অংশ নেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিছু সময় সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করেন। এরপর, অনেকগুলো বছর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অতঃপর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কেনসিংটন গার্ডেন্স এলাকায় ৫৯ বছর ৩৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    স্যামি কার্টার

    ১৫ মার্চ, ১৮৭৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থোরাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের সাথে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, সমসাময়িক অনেকে স্ট্যাম্পের কাছে থাকলেও তিনি তা করতেন না। ব্যাটিংকালে কাঁধের উপর দিয়ে স্কুপ করতেন। ব্যাটিংয়ে…

  • |

    জোই বেঞ্জামিন

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে সেন্ট কিটসের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    জেমস ক্রান্সটন

    ৯ জানুয়ারি, ১৮৫৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বোর্ডস্লে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টানটন কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সতেরো বছর বয়সে দলটির সাথে প্রথম যুক্ত হন।…

  • | |

    রোশন মহানামা

    ৩১ মে, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ম্যাচ রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের…

  • | |

    জন কিং

    ১৬ এপ্রিল, ১৮৭১ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের লাটারওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় অন্যতম সেরা বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ…

  • | |

    আর্চি ম্যাকলারিন

    ১ ডিসেম্বর, ১৮৭১ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের হোয়ালি র‍্যাঞ্জ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তুলা ব্যবসায়ী জেমস ম্যাকলারিন ও এমিলি কার্ভার দম্পতির সপ্তম পুত্রের দ্বিতীয় ছিলেন। পরবর্তীতে, ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ পিতার উদ্দীপনায় ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত হন।…