|

জন ইভান্স

১ মে, ১৮৮৯ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

উইনচেস্টারে অধ্যয়নের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ ও র‍্যাকেট খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮ থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখা থেকে বিরত থাকলে তাঁর মাঝে আত্মবিশ্বাসের অভাব পরিলক্ষিত হয় ও ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ গড়ে উঠেনি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে নিয়মিতভাবে খেলতেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পর রয়্যাল ফ্লাইং কোরে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৬ জুন, ১৯১৬ তারিখে সংঘর্ষে প্রাণে বেঁচে যান। গাটারস্লো বন্দীশিবিরে অবস্থান করেন। এখান থেকে পালিয়ে যান। কয়েকদিন পর সীমান্তের ২০ গজ দূরে আবারও গ্রেফতার হন। বাভারিয়ার ইঙ্গোস্টাডের সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পলায়নের চেষ্টা চালালে আবারও আটক হন। অসুস্থ ও ক্লান্ত অবস্থায় নিয়মিতভাবে পলায়ন করায় তাঁকে জর্নডর্ফের শিবিরে রেলযোগে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আরেক ব্রিটিশ কর্মকর্তা বাকলিকে নিয়ে রেলগাড়ীর জানালা ভেঙ্গে ঝাঁপিয়ে পলায়ন করতে সমর্থ হন ও সুইস সীমান্তে চলে আসেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৮ থেকে ১৯২৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সব মিলিয়ে ৯০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৬ শতক সহযোগে ৩৪৯৯ রান তুলেছেন। ১৯২১ সালে কেন্ট ও এমসিসির পক্ষে খেলেন। ঐ বছর শক্তিধর অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে এমসিসির সদস্যরূপে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে টেস্ট দলে নিজেকে ঠাঁই করে নেন।

১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আলফ্রেড ডিপার, জ্যাক ডারস্টন ও নাইজেল হেগের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐ টেস্টের উভয় ইনিংস থেকে ৪ ও ১৪ রান তুলতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। আইরিশ বেহালাবাদক মেরি গালব্রেইদের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির মাইকেল ইভান্স নামীয় অভিনেতা পুত্র ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় ৭১ বছর ১৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | | | |

    কোর্টনি ওয়ালশ

    ৩০  অক্টোবর, ১৯৬২ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাশাপাশি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৭ মিটার) দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। এরিক ওয়ালস ও জন ওলাস্টন দম্পতির সন্তান ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র…

  • |

    ভার্নন রয়েল

    ২৯ জানুয়ারি, ১৮৫৪ তারিখে চেশায়ারের ব্রুকল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৩ থেকে ১৮৯১…

  • |

    বাকা জিলানী

    ২০ জুলাই, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। লেগ-ব্রেক ও মিডিয়াম-পেস লেগ-কাটার সহযোগে বোলিং করতেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    রবার্ট ডোয়ার

    ৪ জুন, ১৮৭৬ তারিখে কেপ কলোনির ককস্টাড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৯৯ সালে…

  • |

    ডেভন কনওয়ে

    ৮ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ১০০টি…

  • |

    মার্ক হ্যাসলাম

    ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ধীরগতিসম্পন্ন…