| |

রুয়ান কালপেগে

১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও ৮৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে সারগোদায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। মাঝারিসারি ও নিচেরসারির ভাঙ্গন ধরান এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট লাভ করেন। এরপর, একই সিরিজে আরও একবার তিন উইকেট পান। এছাড়াও, নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আট ওভার বোলিং করেন। এ পর্যায়ে শচীন তেন্ডুলকরকে হাসান তিলকরত্নে’র মুঠোয় জমা করে বিদেয় করেন। ১/৩৪ ও ২/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মনোজ প্রভাকরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিক দল ২৩৫ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। সফরকারীদের এ জয়টি গত ২৭ টেস্টে বিদেশের মাটিতে প্রথম জয় ছিল।

এক পর্যায়ে টেস্টে নিজেকে বেশ জবথবু অবস্থায় দেখতে পান। নিয়মিতভাবে উইকেটের সন্ধান পাচ্ছিলেন না। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে ব্যক্তিগত একমাত্র অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত ঐ ইনিংসটি অবশ্য দলের পরাজয়কে রোধ করতে পারেনি। তাঁর বোলিংয়ে প্রধান সমস্যা ছিল বেশ সাধারণমানের সাদামাটা বল ফেলা। এছাড়াও, বলকে তেমন বাঁক খাওয়াতে পারতেন না। অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের কাছেই রানের আধার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ঐ সিরিজে নবজ্যোৎ সিঁধু তাঁর বল থেকে কয়েকটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ব্যাঙ্গালোর টেস্টে আত্মবিশ্বাসীভাব বজায় রেখে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীকালে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসে পরিণত হয়।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বেনসন এন্ড হেজেস ত্রি-দেশীয় সিরিজে বেশ ভালো খেলেছিলেন। তবে, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে উপেক্ষিত করে। উদীয়মান উপুল চন্দনাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে। ফলে, তাঁর খেলার সুযোগও অনেকাংশে নিচেরদিকে চলে আসে। তাসত্ত্বেও, আরও তিন বছর খেলার জগতে অবস্থান করেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৪ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের তৃতীয় খেলায় অংশ নেন। ২/৭৫ ও ২/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি’র জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও শ্রেয়তর রান-রেটে শ্রীলঙ্কান দল চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।

বেশ পরিশ্রমী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূখী অল-রাউন্ডার ছিলেন। অভিষেককালীন শ্রীলঙ্কা দল টিকে থাকার লড়াইয়ে ছিল ও ঐ সময়ে তিনি কিছু সুন্দর মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তাঁর অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান অবশ্য মোটেই সুবিধের ছিল না। তাসত্ত্বেও, শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ন্যায় গৌরবের সাথে জড়িত করাতেই নিজের স্বার্থকতা খুঁজে পেয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের খেলায় দূর্দান্ত খেলতেন ও সবদিক দিয়ে ভালো খেলে নিজেকে উপযোগী খেলোয়াড়ে পরিণত করেন। তবে, টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ অনিয়মিতভাবে খেলতেন। দলে নিজেকে খুঁজে পেতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ের কোন অবস্থানের উপযোগী হিসেবে তাঁকে বিবেচিত করা বেশ দুরূহের বিষয় ছিল।

বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা মুত্তিয়া মুরালিধরনের সাথে জুটি গড়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে অন্যতম কার্যকর বোলার ছিলেন। তবে, নিজেকে কখনো বোলিং অল-রাউন্ডারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত করতে পারেননি। বামহাতি কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে নিচেরসারিতে বেশ কিছু ইনিংস খেলেছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে প্রকৃতমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত করে তুলেন। চাতুর্য্যপূর্ণ অফ-স্পিন বোলিংয়ের জন্যে অধিনায়ক কর্তৃক আমন্ত্রিত হতেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতে পারতেন। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে তাঁর বোলিং বেশ খেঁই হারিয়ে ফেলে।

টেস্ট পর্যায়ে তাঁর বোলিং তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এগারো টেস্টে অংশ নিয়ে কোন ইনিংসেই দুইয়ের অধিক উইকেট পাননি। ব্যাট হাতে নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। টেস্টের তুলনায় একদিনের আন্তর্জাতিকেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ওডিআইয়ে ৭৩ উইকেট লাভ করেন।

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। একই বছরে ট্রেভর চ্যাপেলের সহকারী হিসেবে শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। ২০০১ সালে এ দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব চলমান রাখেন। কিন্তু, ২০০৪ সালে দলের কম্পিউটার বিশ্লেষক হিসেবে নিযুক্তি পেলে উভয় দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। এপ্রিল, ২০০৬ সালে স্পিনার্স ক্লিনিকে প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, এ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে প্রশিক্ষণ দিতেন। মার্চ, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির হাই পারফরম্যান্সের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালে এ দায়িত্ব ত্যাগ করে শ্রীলঙ্কা দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত হন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ১৯ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে বিসিবি তাঁকে বরখাস্ত করে।

Similar Posts

  • | |

    জ্যাক প্লিমসল

    ১১ অক্টোবর, ১৯১৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কল্ক বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…

  • |

    ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড

    ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সেন্ট জর্জের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে একত্রে ফার্স্ট গ্রেড ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে ১৫.৯৫…

  • | |

    ডগ রাইট

    ২১ আগস্ট, ১৯১৪ তারিখে কেন্টের সিডকাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে কেন্ট দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন।…

  • |

    ক্ল্যারি গ্রিমেট

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডুনেডিনের ক্যাভারশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রিচার্ড জেমস গ্রিমেট ও মেরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি ওয়েলিংটনে চলে যায়। সেখানকার মাউন্ট কুক বয়েজ স্কুলে…

  • |

    জিম ম্যাককোনন

    ২১ জুন, ১৯২২ তারিখে কো ডারহামের বার্নপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৮…

  • |

    বিলাওয়াল ভাট্টি

    ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরের ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী ছোট্ট শহর মুরিদকে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিধ্বংসী অল-রাউন্ডার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন।…