৫ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে বার্বাডোসের ওয়াল্ড্রন্স ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও নর্দার্ন ট্রান্সভালের পক্ষে খেলেছেন। প্রথম দুই মৌসুমে ৫০টি করে উইকেট পেয়েছিলেন।
২২ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে গ্ল্যামারগনের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। গ্ল্যামারগনের ইতিহাসের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ পিঠের আঘাতের কারণে নিজের সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাবটির পক্ষে ৩৫ খেলায় অংশ নিয়ে ২৪ গড়ে উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা বিদ্রোহী দলের সাথে গমন করলে আজীবনের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। বার্বাডোসে ফিরে আসার পর কিছু সময় ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেন। ১৯৮৬ সালে আরও এক মৌসুম গ্ল্যামারগনের পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ ক্রিকেটে পেশাদারী পর্যায়ে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৯০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩২ বছর বয়সে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২৩ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ২৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেভন ম্যালকমের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭০ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৫ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১৪ ও ১/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কার্টলি অ্যামব্রোসের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে ১৬৪ রানে জয় পেলে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৪৩.৫০ গড়ে ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৩৫ খেলায় অংশ নিয়ে ২৩.৩১ গড়ে ২৭৯ উইকেট লাভ করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বার্বাডোসের শীর্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেন্ট মাইকেলে কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। এরপর, বার্বাডোসের কিশোর দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বার্বাডোসের পুরুষ ও মহিলা দল নির্বাচক ছিলেন। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত মহিলাদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ মহিলা দলের সহকারী কোচ হিসেবে যুক্ত ছিলেন। গ্ল্যামারগনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে ব্রিজটাউনে ৬৩ বছর ৩২ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।
