১৭ জানুয়ারি, ১৯১৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। ক্রিকেটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। রঞ্জী ট্রফি প্রদানকারী পিতা পাতিয়ালার মহারাজা ছিলেন। মানবমূখী কর্মকাণ্ডের তুলনায় খেলোয়াড় হিসেবেই নিজেকে চিত্রিত করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের দর্শনীয় ব্যাটসম্যান তিনি। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে পাতিয়ালার মহারাজা একাদশ, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৩৪ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ও ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরফলে, আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৪১৬ পয়েন্ট লাভ করেন। খেলায় তাঁর দল ২০২ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাভূত হয়।
এরপূর্বে ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু, রাজ্যের ব্যবসায়িক কর্মব্যস্ততার কারণে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে জ্যাক রাইডারের নেতৃত্বাধীন সফররত অস্ট্রেলীয় দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ভারতের অন্যতম অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়েছিল।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদবীধারী ছিলেন। ১৯৩৮ সালে পাতিয়ালার মহারাজারূপে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। এরফলে, রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝুঁকে পড়েন। পরবর্তীতে, জাতিসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন। ইতালি ও হল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৭ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ৬১ বছর ১৫১ দিন বয়সে নেদারল্যান্ডসের হেগে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
