| |

পার্থসারথী শর্মা

৫ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে রাজস্থানের আলওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে সম্যক পরিচিত লাভ করেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দুই দশকের অধিক সময় রাজস্থান ও সেন্ট্রাল জোনের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, তাঁর এ প্রতিভা ক্রিকেটের উঁচু আসরে তুলে ধরতে পারেননি। যে-কোন অবস্থানে ব্যাট হাতে নিয়ে মানিয়ে নিতে পারতেন। মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন ও কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন।

কিশোর বয়সেই তারকা ক্রিকেটার সেলিম দুরাণী’র কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান। ফলশ্রুতিতে, অনেকটা আগেভাগেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, সূচনা পর্বটি তেমন সুবিধের হয়নি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলেন। রাজস্থানের সদস্যরূপে উত্তরপ্রদেশের বিপক্ষে দল ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করলেও তিনি ব্যাট কিংবা বল করেননি এবং খেলায় কোন ক্যাচও তালুবন্দী করতে পারেননি। কেবলমাত্র ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকেই দলে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

১৯৭১-৭২ মৌসুমে রাজস্থান ও সেন্ট্রাল জোনের সদস্যরূপে দারুণ খেলেন। এ পর্যায়ে দিলীপ ট্রফির শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৭২ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে নামাঙ্কিত হন।

১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। টেস্ট শুরুর পূর্বে সুনীল গাভাস্কারমনসুর আলী খান পতৌদি আঘাতের কবলে পড়লে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। টেস্ট অভিষেক পর্বটি দারুণভাবে উদযাপন করেন। দলের সংগ্রহ ১০৪/৩ থাকা অবস্থায় পাঁচ নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। অপর প্রান্তে নিয়মিতভাবে উইকেটের পতন ঘটতে থাকলে দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহে তৎপর হন। অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে ৫৪ রানে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্তাকর্ষক ৪৯ রান তুলে রান-আউটের শিকার হন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৭ রানে জয়লাভ করে এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বাদ-বাকী ভারত দলের সদস্যরূপে বোম্বের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ২০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরফলে, ঐ সময়ে ইরানী ট্রফিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রায় দুইশত উইকেট দখল করেছেন। তাসত্ত্বেও, ভারতের সদস্যরূপে বল হাতে তাঁকে তেমন দেখা যায়নি। সবগুলো আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়ে তাঁকে মাত্র চার ওভার বোলিং করার সুযোগ দেয়া হয়। মাত্র আট রান খরচ করেছিলেন তিনি।

অবসর গ্রহণের পর খ্যাতিমান কোচ হিসেবে পরিচিতি পান। গৌতম গম্ভীরের ব্যাটিংশৈলী পরিবর্তনে এগিয়ে আসেন। চার বছর মেয়াদে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে মনোজ প্রভাকরের পরিবর্তে রাজস্থানের কোচের ভূমিকায় অগ্রসর হন। তাঁর প্ররোচনায় উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহণকারী পঙ্কজ সিংকে রাজস্থান দলে নিয়ে আসা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এক পুত্রসন্তানের জনক। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে ৬২ বছর ২৮৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    রবিন পিটারসন

    ৪ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কোন স্পিন কোচের শরণাপন্ন হওয়া ব্যতিরেকে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার…

  • |

    নাঈম ইসলাম

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী বিভাগ ও রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চিটাগং কিংসের পক্ষে খেলেছেন।…

  • | |

    মুরালি কার্তিক

    ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। প্রারম্ভিক বছরগুলো মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • | |

    মন্টি নোবেল

    ২৮ জানুয়ারি, ১৮৭৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডিক্সন স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। যোসেফ নোবেল ও মারিয়া দম্পতির অষ্টম ও কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। ক্রাউন স্ট্রিট সুপারিয়র পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ‘মেরি অ্যান’, ‘আল্ফ’ কিংবা…

  • | |

    জোনাথন অ্যাগ্নিউ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৬০ তারিখে চেশায়ারের ম্যাকলসফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জোনাথন অ্যাগ্নিউ ‘স্পাইরো কিংবা ‘অ্যাজার্স’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। আপিংহাম স্কুলে…

  • |

    প্রসন্ন জয়াবর্ধনে

    ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের গুণাবলী নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের সমান যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন। সেন্ট সেবাস্টিয়ান্স কলেজ একাদশের পক্ষে তিন…