১৭ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
নিউজিল্যান্ড দলের শৌখিন খেলা থেকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্রান্তিলগ্নে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন ও দলকে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান।
শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন ভালো খেলতেন না। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। টেস্ট অভিষেকের কয়েক বছর পূর্বে নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। অকল্যান্ডের পক্ষে প্লাঙ্কেট শীল্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের সন্ধান পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে শূন্যতা থাকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তেমন বাঁধার মুখোমুখি হননি।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কোন শতরানের সন্ধান না পাওয়া সত্ত্বেও ইউএসপি হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে জাতীয় দলে ঠাঁই দেয়া হয়। এছাড়াও, ঐ সময়ে নিউজিল্যান্ড কাউন্সিলের সদস্য ও অকল্যান্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গর্ডন বার্জেসের সন্তান ছিলেন তিনি। তবে, শীঘ্রই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র একটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলা সত্ত্বেও ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন।
১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৫০টি টেস্ট ও ২৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস মারে ও রয় হারফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অর্ধ-শতক হাঁকান। নবম উইকেটে জ্যাক অ্যালাবাস্টারের সাথে ৬৯ রান যোগ করে দলের সংগ্রহকে ৩৫০-এ নিয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৯ রান তুলেন। এছাড়াও, ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ভারতের ৫ উইকেটের বিজয়কে রুখতে পারেননি ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল জয় পেলেও তিনি খুব কমই ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ভারতের অবিসংবাদিত স্পিনারদের বিপক্ষে সাড়ে তিন ঘণ্টার অধিক সময় ক্রিজে অবস্থান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বেভ কংডনের সাথে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। উইজডেনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয় যে, পুরো সিরিজে এটিই নিউজিল্যান্ডের সেরা ব্যাটিংচিত্র ছিল। ব্যাট হাতে ৬৬ ও ৬০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
চতুর্থ টেস্টে খুব কম রান তুললেও বেশ প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করেছিলেন। তিনটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৩৩.৮৭ গড়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে অভিষেক সিরিজে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। খুব দ্রুত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতরানের সন্ধান পান। এর পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিউজিল্যান্ডে আসে ও ইংল্যান্ড গমনার্থে কিউইরা বিদেশ পাড়ি জমায়।
১৯৬৯ সালে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৩০ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
দুইটি দলের বিপক্ষে ৬ টেস্টে চারটিতে অংশ নিয়েছিলেন। সর্বসাকুল্যে মাত্র ৮৭ রান তুলেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অভিমত ছিল যে, তাঁকে হয়তোবা দলের বাইরে রাখা হবে। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও ১৯৬৯ সালের শেষদিকে ভারত ও পাকিস্তান সফরে তাঁকে দলের সদস্যরূপে বহাল রাখা হয়। এ সফরেই তিনি কিছু উল্লেখযোগ্য স্বর্ণালী মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন।
বোম্বেতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০ ও ০ রান তুলেন। খেলায় কিউইরা ৬০ রানে পরাজিত হয়। নাগপুরে পরের টেস্টে চার ঘণ্টার কম সময় নিয়ে ১৩টি বাউন্ডারির সহায়তায় ৮৯ রান তুলেন। এরফলে, প্রথম ইনিংসে তাঁর দল ৩১৯ রান তুলে ও বড় ধরনের জয় পায়। এ জয়টি ভারতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের প্রথম বিজয় ছিল। এছাড়াও, অফ-স্পিন বোলিং করে ৮ ওভারে তিন উইকেট লাভ করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। হায়দ্রাবাদের চূড়ান্ত খেলায় দুই ইনিংস থেকে মাত্র ৫ রান যুক্ত করতে পেরেছিলেন। এরপর, পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিজ দেশে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা বিজয়ী হয়।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৯ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩২ ও ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে জন পার্কারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৯ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ১৭ রান সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১১১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে পঞ্চম উইকেটে অপর অভিষেকধারী রবার্ট অ্যান্ডারসনের (৯২) সাথে ১৮৩ রানের জুটি গড়ে নতুন নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড দাঁড় করান। তাসত্ত্বেও ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৪০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২১৬ রানে পরাজিত পেলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮০-৮১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রায়েম উডের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য বোলিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
