|

জাকির খান

৩ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বান্নু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘকায় ও শক্তি-মজবুত গড়নের অধিকারী। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে শুরু করে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও পেশাওয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের দূরন্ত সূচনা ঘটান। ৪/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

দেড় বছর অপেক্ষার পর ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অনেকটা বিস্ময়করভাবেই ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে জাতীয় দলে রাখা হয়। ২২ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র উইকেটসহ প্রথম ইনিংসে ৩/৮০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ০/৭০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, অশঙ্কা গুরুসিনহা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে ঐ খেলাটি ড্রয়ে পর্যবসিত হলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এরপর থেকেই একদিনের দলে আসা-যাবার পালায় থাকতেন। এ পর্যায়ে তিনি ইনিংসের শেষদিকে ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন।

প্রথম টেস্টের ন্যায় দ্বিতীয় টেস্টেও তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে কৃষ শ্রীকান্তের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। সর্বশেষ খেলার সুযোগ পেলেও তেমন সফলতা পাননি। ০/৫০ ও ২/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯* রানে অপরাজিত ছিলেন ও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, নবজ্যোৎ সিঁধু’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। এরপর আর তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯২ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই পাকিস্তান বোর্ডে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপক ও পরবর্তীতে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

Similar Posts

  • |

    নানা জোশী

    ২৭ অক্টোবর, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাট হাতে খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর…

  • | | | | | | |

    কেপলার ওয়েসেলস

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ব্লুমফন্তেইনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, আম্পায়ার, রেফারি ও কোচ। ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি

    ১৯ জুলাই, ১৯২০ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্যার এভারটন উইকসের ন্যায় তিনিও ব্যতিক্রমী, খাঁটি মানসম্পন্ন ও সহজাত খেলোয়াড় ছিলেন। তবে, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনকে দীর্ঘতর করতে পারেননি। সকল ধরনের গুণাবলী থাকলে প্রায়শঃই…

  • |

    জর্জ থর্নটন

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৮৬৭ তারিখে ইংল্যান্ডের স্কিপটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। স্কিপটন গ্রামার স্কুলে অধ্যয়নের পর এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অংশ না নিলেও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে…

  • |

    রস মর্গ্যান

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন। মিড-উইকেট বরাবর বল ফেলে রান তুলতে তৎপরতা দেখিয়েছেন। বল হাতে নিয়েও স্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    রুবেল হোসেন

    ১ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্পিনারদের আধিপত্যবাদের যুগে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তাঁর ফাস্ট বোলিংয়ের ধরন কিছুটা…