২৮ অক্টোবর, ১৯১৩ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। গায়ানা তথা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। ১৯ বছর বয়সে জ্যামাইকার নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ইভান ব্যারো’র সহকারী হিসেবে ইংল্যান্ড গমনার্থে ১৯৩৩ সালে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, তাঁকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। কিন্তু, প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে বেশ অভিজ্ঞতাপুষ্ট হন।
১৯৩৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেন। টেস্টগুলো থেকে ৬টি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং ঘটিয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯.৬০ গড়ে ৯৮ রান তুলতে পেরেছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। এ পর্যায়ে দলের প্রধান উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ ক্যারিও, লেসলি হিল্টন ও রল্ফ গ্র্যান্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ অ্যামিস চারটি বাই-রান দিলেও তরুণ হিসেবে তিনি মাত্র তিনটি বাই-রান দিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৯* ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয় টেস্টে ২১ বছর বয়সী উইকেট-রক্ষক ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। বামহাতি চার্লি জোন্সের সাথে জুটি গড়লে টেস্ট ক্রিকেটে গায়ানার প্রথম উদ্বোধনী জুটি হিসেবে মর্যাদা পান। তেমন সুবিধে না করলেও খাঁটিমানের শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে নিজেকে পরিবর্তিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলেন। ঐ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ঐতিহাসিক জয় পেয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে।
স্বল্পকালের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিলেও বেশ দারুণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনকালে লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন, ম্যানি মার্টিনডেল ও লেসলি হিল্টনের ন্যায় পেসারদের বল আটকাতে হয়েছিল। নিজ জন্মভূমি ব্রিটিশ গায়ানায় অনুষ্ঠিত নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে প্যাটসি হেনড্রেন, মরিস লেল্যান্ড ও লেসলি অ্যামিসকে কট বিহাইন্ডে বিদেয় করেন। এছাড়াও, লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের দ্রুতগতির বলে জর্জ পেইনকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন।
একই সফরের ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৬১ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৪ এপ্রিল, ১৯৩৮ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে মাত্র ২৪ বছর ১৫৮ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর অপর ভ্রাতৃত্রয় – আর্নেস্ট, হ্যারি ও রবার্ট ব্রিটিশ গায়ানার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, কনিষ্ঠ ভ্রাতা রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি বেশ উঁচু স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
