১০ জুলাই, ১৯০০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে অধিকাংশ সময়ই ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। পরবর্তীতে, মাঝারিসারিতে চলে যান। মাঝে-মধ্যে বল হাতে নিয়ে মিডিয়াম-পেস সহযোগে বোলিং করে থিতু হয়ে আসা জুটি ভাঙ্গতে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতেন। জোহানেসবার্গে অবস্থানকালীন বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থাতেই গ্লুচেস্টারমায়ারের ক্রিকেটার ও লর্ডসের কোচ আলফ্রেড অ্যাটফিল্ডের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম দুই খেলা থেকে খুব কমই সফলতা পেয়েছিলেন। তবে, পরের মৌসুমে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ৪২-এর অধিক গড়ে রান তুলেন। কেবলমাত্র দুইবার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান তুলতে পেরেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মাত্র ৭৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯২২-২৩ মৌসুমে ট্রান্সভালের সদস্যরূপে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ১৩ চার ও দুই ছক্কা সহযোগে ১৯৫ মিনিটে ১২৮ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়।
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সিরিল ফ্রাঁসোয়া, জর্জ হার্ন, আইজাক বাইস ও উইলিয়াম ব্রানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৩৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাত্র ১৭ রান সংগ্রহ করলেও হার্বি টেলরের অসাধারণ দৃঢ়তায় ১৭৬ রানের নিখুঁত ইনিংসের কল্যাণে দল সমূহ পরাজয় থেকে রক্ষা পায়। স্বাগতিকরা ১৬৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৬ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৮ জুন, ১৯২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ১২০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে পূর্বেকার সর্বোচ্চ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২০ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিজ দেশে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১৯ ও ২* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে সক্ষম হয়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ২১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯২৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৩ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে ট্রান্সভালের কেম্পটন পার্ক এলাকায় ৬০ বছর ১৭৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
