২৫ আগস্ট, ১৯০৬ তারিখে উইল্টশায়ারের করশ্যাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বিগ জিম স্মিথ’ ডাকনামে ভূষিত জিম স্মিথ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত উইল্টশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩০ সালে মাইনর কাউন্টিজের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন। ১৯২৬ সাল থেকে লর্ডসের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। এক পর্যায়ে মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও তাঁকে খেলার সুযোগ করে দেয়া হয়। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৪ সালে দলটিতে যুক্ত হন। এরপর থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত দলটিতে খেলেন। এ পর্যায়ে ১৫২বার দলটির পক্ষে খেলেছেন। ডানহাতি ফাস্ট বোলার হলেও নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটিংয়ের কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৭.৭৫ গড়ে ৬৭৬ উইকেট দখল করেছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৮/০২ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৫.৪২ গড়ে ২৯৭৭ রান তুলেছেন। ১৯৩৯ সালের ক্যান্টারবারিতে কেন্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত অপরাজিত ১০১ রানের একমাত্র শতক হাঁকান। পাশাপাশি, ৬৯ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। চার মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৪ সালে ১৮.৮৮ গড়ে সর্বাধিক ১৭২ উইকেট দখল করেছেন।
১৯৩৫ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলোয় ২৬.২০ গড়ে ১৫ উইকেট দখল করেন। একবার বিদেশ সফর করেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এরল হোমস, জর্জ পেইন, জ্যাক ইডন ও এরিক হোলিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৮ ও ৫/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে বিদেয় নেন। ৪ উইকেটে জয় পেলে তাঁর দল চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩৭ সালে নিজ দেশে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯৩৭ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ২১ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৯ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৩০ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে দলে খেলার সুযোগ দিলেও তিনি খেলতে রাজী হননি। ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইস্ট ল্যাঙ্কাশায়ার ও ব্ল্যাকবার্ন নর্দার্নের পক্ষে খেলেছেন। লর্ডসে কিছু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। একটি শট কমিটির কক্ষের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে; বড় ধরনের মার ফাদার টাইম ও এক হাতে মেরে প্যাভিলিয়নের ছাদের উপর দিয়ে বাইরে ফেলেন। জর্জ ম্যাকাউলি’র বল থেকে সেন্ট জোন্স উড রোডের বাইরে ফেলেন।
১৯৩৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের মেলর এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৭২ বছর ১৬৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
