৩ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে মিডলসেক্সের হিলিংডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। শীর্ষসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। লিস্ট ও গ্যারি হেলস দম্পতির সন্তান তিনি। ওয়েস্টব্রুক হে স্কুল ও বাকিংহামশায়ারের চেশাম হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, ইংল্যান্ড লায়ন্স, বাকিংহামশায়ার, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে দূরন্ত রাজশাহী, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচী কিংস, বিগ ব্যাশ লীগে সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন রেনেগ্যাডস, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন।
তিন মৌসুম সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০১৫ সালের ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্ল্যাস্ট প্রতিযোগিতায় ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে খেলাকালীন উপর্যুপরী ছয়টি ছক্কা হাঁকান। দুইটি ভিন্ন ওভারে বয়েড র্যাঙ্কিং ও আতিক জাভেদের বল থেকে এ সফলতা পান।
২০১১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তবে, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উভয়টিতেই শতক হাঁকিয়েছেন। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৩১ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে তার। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ৪৮ বল মোকাবেলা করে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৯ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, প্রথম ইংরেজ হিসেবে টি২০আইয়ে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে এ স্তরের ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৪ বলে ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ১৯০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখেন। তাঁর এ শতকটি টি২০আইয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম শতরানের মর্যাদা পায়। ১১টি চার ও ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মঈন আলী’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৪১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪৪/৩ রানের বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। ১২২ বলে তিনি ১৭১ রান সংগ্রহ করে রবিন স্মিথের ২৩ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে ওডিআইয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নেন।
সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে ব্যাপক সাফল্যের প্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অবস্থানের শীর্ষে খেলার সুযোগ করে দেয়। অ্যালাস্টেয়ার কুকের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী সঙ্গীর অন্যতম হন। কেপটাউনে ৬০ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলার পর নিজ দেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ ইনিংস থেকে তিনবার ৮০ ঊর্ধ্ব রান তুলেন। তবে, এরপর থেকে তাঁর খেলায় ছন্দহীনতা লক্ষ্য করা যায়।
২০১৬ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, ইউনুস খানের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একাধারে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কারে ভূষিত হন।
