|

ব্রেন্ট আর্নেল

৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ওয়াইকাতোর টি আয়ামুতু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘদেহের অধিকারী তিনি। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই শেন বন্ডকে উজ্জীবিত করেছিল। প্রত্যাশামাফিক নিজেকে খেলোয়াড়ী জীবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেননি। তরুণ অবস্থায় দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে খুবই দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। এরফলে, ১০ বছর বয়সী ব্রেন্ট আর্নেলকে কিশোরদের ক্রিকেট থেকে বাদ দেয়া হয়। খুব শীঘ্রই বড়দের দলে খেলার সুযোগ পান। ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করলেও ঐ এলাকায় পিতা-মাতা অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্রিকেট বিদ্যালয় পরিচালনা করার সুবাদে অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হননি।

২০০৬ থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০০৬-০৭ মৌসুমে চারটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পরের মৌসুমে দারুণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে ৩৩ উইকেট পান। এরফলে, ২০০৬ সালে ভারত গমনার্থে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান।

তবে, শক্তিধর নিউজিল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে আরও একটি সফলতম সফর সম্পন্ন করেন। এরফলে, ২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। কিন্তু, কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১০ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে অ্যান্ডি ম্যাককে’র আঘাতের কারণে দলের সদস্য হন।

২০১০ থেকে ২০১২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৮৯ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই সফরের ২৭ মার্চ, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এমজে ক্লার্ককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৮৯। খেলায় তিনি ০/৫৩ ও ৩/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ১৭৬ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এ সিরিজে মাত্র পাঁচ উইকেট পেলেও তাঁর বোলিং বেশ উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। চমৎকার পেস সহযোগে রাউন্ড-দি-উইকেট বরাবর বোলিং করে সায়মন ক্যাটিচের ন্যায় ব্যাটসম্যানের সমীহের পাত্রে পরিণত হন।

২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে আব্দুর রেহমানের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৩/৭৭। খেলায় তিনি ব্যক্তিগত সেরা ৪/৯৫ লাভ করেন। এছাড়া, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, আব্দুর রেহমানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

বয়সের বিবেচনায় এনে ও জবুথবু শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে রাখা হয়। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ২০১২ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪৬ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ বোলিং কীর্তিতে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবলেও দক্ষতার পরিচয় দেন। তবে, ক্রিকেটকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

Similar Posts

  • |

    আশফাক আহমেদ

    ৬ জুন, ১৯৭৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, পাকিস্তান অটোমোবাইলস কর্পোরেশন ও পাকিস্তান…

  • | | | |

    জন অ্যাম্বুরি

    ২০ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে লন্ডনের পেকহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘এম্বার্স’, ‘আর্নি’ কিংবা ‘নাকল’ ডাকনামে পরিচিত জন এম্বুরি ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। পেকহাম ম্যানর সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন…

  • |

    জাকির হাসান

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চিটাগং ভাইকিংস, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, রাজশাহী কিংস, গাজী গ্রুপ…

  • | |

    মাশরাফি বিন মর্তুজা

    মাশরাফি বিন মর্তুজা দল বাংলাদেশ ইংরেজি নাম Mashrafe Mortaza পূর্ণাঙ্গ নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা ডাক নাম কৌশিক, হৃদয়ের রাজপুত্র জন্ম ৫ অক্টোবর, ১৯৮৩নড়াইল, বাংলাদেশ উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৭ মিটার) পরিবার গোলাম মর্তুজা (পিতা); হামিদা মর্তুজা (মাতা); সুমনা হক সুমী (স্ত্রী); হুমাইরা মর্তুজা (কন্যা) ব্যাটিং ডানহাতি বোলিং ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম ফিল্ডিং — ভূমিকা বোলার, অধিনায়ক,…

  • | |

    হাশিম আমলা

    ৩১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে…

  • |

    স্টিভেন জ্যাক

    ৪ আগস্ট, ১৯৭০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন ও আক্রমণাত্মক বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…