২ জানুয়ারি, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ব্যাটারসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ব্যাপক অর্থেই কাউন্টি খেলোয়াড় হিসেবে সফলতা পেয়েছেন। কিছুটা দেরীতে ২৮ বছর বয়সে কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩১ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। অনেকগুলো বছর ধরে সারে দলের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছিলেন নিজেকে। ১৮৭০-এর দশকের শুরুর পর থেকে প্রথম বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সাড়া জাগান। বছরের পর বছর ধরে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন। সচরচার দুই সহস্রাধিক রান ও প্রায় ৫০ গড়ে রান তোলার তাঁর জন্যে নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল।
১৯৩০ সালে মাঠকর্মী হিসেবে সারে দলে যোগ দেন। ১৯৩১ সালে ওভালে অক্সফোর্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯৩৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। এ বছর ৩১.৪৭ গড়ে ৫৯৮ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। পরের বছর নিয়মিতভাবে খেলে তিন শতক সহযোগে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৫৩.২২ গড়ে ২১২৯ রান তুলেন। লর্ডসে টেস্টের যাচাই-বাছাইয়ে দুই খেলায় অংশ নেন। ওভালে সাসেক্সের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে শতক হাঁকান।
১৯৩৬ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে দুই টেস্ট খেলেন। ২৫ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আল্ফ গোভার ও আর্থার ফাগের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এডি পেন্টারের পরিবর্তে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। তবে, ডানহাতের হাড় ভেঙ্গে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ছয় সপ্তাহ হারান। দ্বিতীয় সফরেও আঙ্গুলে চোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট চালু হলে ৩৯ বছর পুণরায় টেস্ট দলে যুক্ত হন।
১৯৪৬ সালে ভারতের বিপক্ষে এক টেস্ট খেলার পর ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে নর্ম্যান ইয়ার্ডলি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৪৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২৫ জুন, ১৯৮৬ তারিখে সারের সাটন এলাকার হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ৭৯ বছর ১৭৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
