| |

জন কিং

১৬ এপ্রিল, ১৮৭১ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের লাটারওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নিজের সেরা দিনগুলোয় অন্যতম সেরা বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ রুখে দাঁড়াতেন ও বয়সের সাথে সাথে বেশ পরিপক্ক হয়ে উঠেন। কাট ও ড্রাইভের দিকেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৫ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। তবে, ১৮৯৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। দলটির সাথে ৩০ বছরের অধিক সময় জুড়ে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করেন। সব মিলিয়ে ৫৫২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১২০৪ উইকেট দখল করেন।

এছাড়াও, ব্যাট হাতে পঁচিশ হাজারের অধিক রান তুলেন। দুইটি দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। একটি ১৯১৪ সালে ৪৩ বছর বয়সে ও অপরটি ১৯২৩ সালে ৫২ বছর বয়সে। উপযোগী পিচে প্রায়শঃই লেগ-স্পিন বোলিং করতেন ও ক্ষীপ্রতার সাথে নিখুঁত নিশানা বরাবর মিডিয়াম বোলিংয়ে পেসে বৈচিত্র্যতা আনতেন। ১৯০৬ সালে ওভালে সারের বিপক্ষে দুইবার বলে আঘাত করায় আউটের শিকার হন। বল গড়িয়ে স্ট্যাম্পে আঘাতের পূর্ব থামান ও এক রান নেয়ার চেষ্টা চালান। ইংল্যান্ডে এ ধরনের ডিসমিসালের এটিই সর্বশেষ উদাহরণ ছিল। স্লিপ অঞ্চলে সতর্ক দৃষ্টিতে উচ্চ মানসম্পন্ন ফিল্ডিং করতেন।

১৯০৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ১৯০৯ তারিখে ৩৮ বছর বয়সে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি প্রথম ইনিংসে ৬০ রান তুলেন ও ১/৯৯ পান। বিস্ময়করভাবে বোলিং উদ্বোধনে অগ্রসর হন। তবে, একই ওভারে ভার্নন র‌্যান্সফোর্ড ও ভিক্টর ট্রাম্পারের ক্যাচ ফস্কে যায়। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৫৪ বছর বয়সে খেলার জগৎ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এগারো বছর আম্পায়ার হিসেবে আটটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলসের ডেনবাই এলাকায় ৭৫ বছর ২১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    কেএস রণজিৎসিংজী

    ১০ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সরোদর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো-বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজকুমার কলেজে অধ্যয়ন করেন। তাঁর পরিবার শাসক পরিবারের সাথে যুক্ত ছিল। নয়ানগরের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত হবার প্রশ্নে তিনি নির্বাচিত করা…

  • | | | |

    কিম হিউজ

    ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট রিভার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাঁর সহজাত প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। স্ট্রোকপ্লে মারতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুডি রাইবারজিক মন্তব্য করেছিলেন যে…

  • | | |

    আসিফ ইকবাল

    ৬ জুন, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। তাঁর কয়েকজন চাচা উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় অধিনায়ক ও অফ-স্পিনার গুলাম আহমেদের ভ্রাতৃষ্পুত্র তিনি। যৌথ পরিবারে বড় হন।…

  • | | |

    নামি ডিন

    ২১ জুলাই, ১৮৯৫ তারিখে জুলুল্যান্ডের এশোই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ও কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পয়েন্ট, সিলি-পয়েন্ট, মিড-অন ও শর্ট-লেগের ন্যায় কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন। আকর্ষণীয় ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। উইকেটে…

  • |

    ডেভিড পিদি

    ৪ অক্টোবর, ১৯৩৬ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।…

  • |

    জ্যাক ইডন

    ৮ জানুয়ারি, ১৯০২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের মডেসলে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে ল্যাঙ্কাশায়ারের সর্বকালের সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর বামহাতের স্পিন বোলিং ধীর ও নিম্নমূখী উইকেটে অধিকতর কার্যকরী ছিল। লেল্যান্ড মটর্সের পক্ষে…