১৬ আগস্ট, ১৮৭২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের শেল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের ২২৩ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন। ১৮৯২ সালে প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলায় নটসের সদস্যরূপে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অংশ নেন। দলের ছয় উইকেটের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকেই বর্ণাঢ্যময় পেশাদার খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
১৯০০ সালে নটিংহ্যামশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। দলকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে নিয়ে যান। ১৮ খেলার সবকটিতে অংশ নিয়ে ৬৯৯ রান ও ১৮ উইকেট দখল করেন। উজ্জ্বীবিত নেতৃত্বের কারণে ঐ বছর উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়েন। ১৯০৩ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ২৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। পরবর্তীতে, ১৯৩৩ সালে ওয়াল্টার কিটন ৩১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তাঁর রেকর্ড নিজের করে নেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে নটিংহ্যামশায়ারের ৫০৩ রান সংগ্রহ করে দলকে ইনিংস ও ২৫৬ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ঐ ইনিংসে অন্য কেউ ৭৬-এর অধিক রান তুলতে পারেনি।
১৯০৭ সালে তাঁর অধিনায়কত্বে নটিংহ্যামশায়ার দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে। এ পর্যায়ে দলটি অপরাজিত ছিল। ১৫টি জয় ও ৪টি খেলায় ড্র করে।
সব মিলিয়ে ৪৭২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৪ শতক সহযোগে ৩১.৫৪ গড়ে ২২৯৩৫ রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ২৯৬ রান। পাশাপাশি চমকপ্রদ ফিল্ডিংয়ের সাথে লেগ-স্পিনার হিসেবেও ভূমিকা রাখেন। ৩২.৮১ গড়ে ৩৩৩ উইকেট দখল করেন।
১৮৯৯ থেকে ১৯০৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে বারো টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অজি দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৭৩ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ১৯০৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অনিন্দ্যসুন্দর সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ ধারা বহমান রাখতে পারেননি। ২১ ডিসেম্বর, ১৯১৪ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের লানার্ক হাউজ এলাকায় স্বীয় ভ্রাতার গৃহে মাত্র ৪২ বছর ১২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ডানস্ট্যাবল সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ১৯২০ সালে নটিংহ্যামশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্মারকসূচক প্রস্তর ফলক উন্মোচন করে।
