১০ মে, ১৮৬৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার পোর্ট মেলবোর্ন এলাকার কাছাকাছি স্যান্ডব্রিজে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রায় এক দশক অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বর্ণাঢ্যময় খেলা উপহার দিয়েছেন। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে বল গ্লাভসবন্দীসহ ব্যাট হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছেন। সময়ে সময়ে বড় ধরনের রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনটি শতক হাঁকালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। ১৮৯০ ও ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘকালীন উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।
প্যাডিংটনের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভিক্টোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও শেফিল্ড শীল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরে কয়েক বছর খেলার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। দলে অন্তর্ভুক্তির পরপরই আঘাতের পূর্ব-পর্যন্ত দীর্ঘদিন বিশ্বস্ততার সাথে গ্লাভস হাতে নিয়ে অগ্রসর হতেন।
১৮৯৬ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৬ সালে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। জ্যাক ব্ল্যাকহামের অবসর গ্রহণের পর ভিক্টোরিয়ার এ.ই. জোন্সের সহকারী হিসেবে দলে যুক্ত ছিলেন। তবে, ব্যাটিংয়ে সাফল্যের কল্যাণে খুব শীঘ্রই মূল উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে খেলেন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই অংশ নেন। এ সফরে ৫৯টি ডিসমিসাল ঘটান। সন্দেহাতীতভাবে তারকা ক্রিকেটার জ্যাক ব্ল্যাকহামের সমকক্ষ না হলেও তিনি উপযুক্তরূপে বিবেচিত হয়েছিলেন।
২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম হিল ও চার্লস ইডি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট চলাকালীন বুকের উপরে বিরাট আঘাত পান। চিকিৎসক তাঁকে খেলা ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেন। সব মিলিয়ে চারবার ইংল্যান্ড গমন করেন। ইংল্যান্ডে শেষ তিন সফরে দলের প্রধান উইকেট-রক্ষক ছিলেন। দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উপর্যুপরী ৩৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।
১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ খেলায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫৫১ রান সংগৃহীত হলেও প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে পাঁচ শতাধিক রান তুললেও কোন বাই-রান দেননি। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৪৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯০৫ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ১৭.০২ গড়ে ৬৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪৩ ক্যাচ ও ২০টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। ভিন্ন যুগে অবস্থান করে কোন টেস্টেই চারের অধিক ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়াতে পারেননি। এছাড়াও, টেস্টে কোন অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি।
১৯০৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলেভ্যু হিল এলাকায় ৭১ বছর ৯৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
