|

দত্তারাম হিন্দেলকর

১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে তাঁর ভূমিকা উপমাস্বরূপ ছিল। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কিন্তু, উইকেট পতনরোধে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার যোগ্যতা তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিন্দু ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ১৯৩৬ ও ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে খেলেছেন। ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ১৯৩৬ সালে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম টেস্টে ২৬ ও ১৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

দুই পায়ের মাঝে ৪৫ ডিগ্রী কোণ বজায় রেখেছিলেন। তবে, আঙ্গুল ভেঙ্গে যাবার কারণে এ সফরের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশগ্রহণ করা থেকে তাঁকে বিরত থাকতে হয়েছিল। এছাড়াও, ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগেন।

এক দশক পর ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে তাঁকে প্রায় বাতিলের খাতায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু, পূর্ববর্তী শীত মৌসুমে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার কারণে তিনি দেশ সেরায় পরিণত হয়েছিলেন। অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে এ সফরে রাখা হয়। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৩৭ বছর। কিন্তু, ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমের বোম্বে পেন্টাগুলারের চূড়ান্ত খেলায় দারুণ ছন্দে ছিলেন। এরফলে, তাঁকে উপেক্ষার শিকারে পরিণত করা যায়নি। এ সফরে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তাসত্ত্বেও, কয়েকটি খেলায় পিঠের আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি। ১৯৪৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে দলের সঙ্কটকালীন প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়েছিলেন। নয় নম্বরে থাকা রাঙ্গা সোহনি’র সাথে এগারো নম্বরে নেমে তিনি ১৩ মিনিট ক্রিজ আঁকড়ে থেকে দলের পরাজয় রোধ করেন।

১৯৪৬ সালে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৭ আগস্ট, ১৯৪৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ভারতের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না ঘটলে সন্দেহাতীতভাবে দীর্ঘদিন টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখতে পারতেন। সমসাময়িকদের অভিমত, তিনি তাঁর সময়কালে সেরা ভারতীয় খেলোয়াড় ছিলেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে অভিষেকে ব্যাটিং উদ্বোধন ও শেষ টেস্টে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহার দিতে না পারলেও স্ট্যাম্পের পিছনে ও ব্যাটিংয়ে তাঁর বেশ কৌশলী মনোভাব লক্ষ্য করা যেতো। সদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন ও বিদেশ সফরে সকলের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

স্বল্প বেতনের পাশাপাশি বিশাল পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। সাত সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ড সফরের তিন বছরের মধ্যেই অসুস্থতার কবলে পরেন। হাসপাতালের ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক নিশ্চয়তা তাঁর পরিবারে ছিল না। মাত্র ৪০ বছর ৮৮ দিন বয়সে ৩০ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে তাঁর দেহাবসান ঘটে। বিসিসিআই ও বিসিএ তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। কিন্তু, স্বীয় কর্মস্থল বোম্বে পোর্ট ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্থ তহবিল গঠন করে। তাঁর ভ্রাতৃস্পুত্র বিজয় মাঞ্জরেকর ও নাতি সঞ্জয় মাঞ্জরেকর টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। তাঁদের উভয়ের মাঝেই উইকেট-রক্ষণের গুণাবলী বিরাজমান ছিল। তন্মধ্যে, বিজয় মাঞ্জরেকার উইকেট-রক্ষক হিসেবে টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন।

Similar Posts

  • |

    জাভেদ ওমর

    ২৫ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গুল্লা’ ডাকনামে পরিচিত জাভেদ ওমর বেলিম কখনোবা ‘ওমর বেলিম’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    জোনাথন ক্যাম্পবেল

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পিতা এডিআর ক্যাম্পবেল জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট ও কাকা ডিজেআর ক্যাম্পবেল প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    টিই শ্রীনিবাসন

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আয়ানগর পরিবারে তাঁর জন্ম। নাঙ্গামবাক্কাম কর্পোরেশন স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। সেখানকার কংক্রিটের পিচে অনুশীলন করতেন। বিদ্যালয়ের পেস বোলারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে…

  • |

    রমেশ দিবেচা

    ১৮ অক্টোবর, ১৯২৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের কডাকডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সুইং ও অফ-ব্রেকের মাঝামাঝি প্রকৃতির বোলিং করতেন। ২৫ গড়ে ২১৭টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছেন। অন্যদিকে, ২০-এর গড়ে…

  • | | |

    আমিনুল ইসলাম

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বুলবুল’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগের…

  • | |

    চেতন শর্মা

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটার যশপাল শর্মা সম্পর্কে তাঁর কাকা। শীর্ণকায় মজবুত গড়নের ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ভারতীয় ক্রিকেটে ‘লিটল হারিকেন’ নামে পরিচিতি পান। হরিয়াণা হারিকেন নামে পরিচিতি…