৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে নাগোদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শৈশবকাল থেকেই লেগ-স্পিনার হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বিদ্যালয় জীবনে ক্রিকেট খেলতেন। খেলায় ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৭ সালে ভারত গমনার্থে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে গমন করেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা সাউথ, গল ক্রিকেট ক্লাব, কালুতারা টাউন ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব, রাগামা ক্রিকেট ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবসহ ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
কালুতারা বিদ্যালয়ের পক্ষে চার বছর খেলেন। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এন.সি.সি’র প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাঝেই ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তবে, খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এরপর আর তাঁকে বিবেচনায় রাখা হয়নি। কিন্তু, মার্চ, ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলায় ১২৬ রান খরচায় ১১ উইকেট দখলের ফলে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রাখেন। এরফলে, উপুল চন্দনা’র পরিবর্তে গ্লুচেস্টারশায়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ঐ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধ্বে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে কেন্টে যোগ দেন। এর পূর্বে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৯৮ থেকে ২০১০ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ৩১টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। নিরোশন বন্দরতিলকে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৪১ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
অল-রাউন্ডার হিসেবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি মাত্র একটি খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। এরপর থেকে দলে ঠাঁই করে নিতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়। তাসত্ত্বেও, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ঘিরে শ্রীলঙ্কার প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৪৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। তবে, মোহাম্মদ আসিফের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
উপুল চন্দনা’র ন্যায় তিনিও নিচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যান ছিলেন। একদিনের আন্তর্জাতিকে নিজেকে দলে স্থায়ীভাবে যুক্ত রাখতে পারেনি। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের পাশে থেকে মূল্যবান সহায়তা করেছিলেন।
