|

অজয় শর্মা

৩ এপ্রিল, ১৯৬৪ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন ও স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও হিমাচলপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক রঞ্জী মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ছয়বার দিল্লি দলের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, চারবার শতক হাঁকিয়েছিলেন ও ‘দিল্লির ডন’রূপে পরিচিতি লাভ করেন। তবে, তাঁর দল দুইবার শিরোপা লাভ করেছিল। সৌরটুপি পরিধান করে খেলতেন ও স্পিনারদেরকে তুনোধুনো করে ছেড়েছেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ৩১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ডব্লিউভি রমন ও নরেন্দ্র হিরবাণী’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাঁরা তাঁদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালান। তিনি ৩০ ও ২৩ রান তুলেছিলেন। নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে কপিল দেবের সাথে ১১৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ডব্লিউভি রমনের সাথে ৬১ রানের জুটি গড়েন। তবে, নরেন্দ্র হিরবাণী’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ২৫৫ রানে জয়লাভ করে ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে কলকাতায় ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ওডিআই থেকে ১৫ উইকেট দখল করেছেন। অক্টোবর, ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৩/৪১ লাভ করেন। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেমন কিছু করতে না পারলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রায় অবিশ্বাস্য রেকর্ড দাঁড় করিয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬৭.৪৬ গড়ে ১০,১২০ রানের সন্ধান পেলেও মাত্র এক টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কমপক্ষে ৫০ ইনিংসে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় গড়ের দিক দিয়ে ডন ব্র্যাডম্যান, বিজয় মার্চেন্টজর্জ হ্যাডলি তাঁর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। বামহাতে স্পিন বোলিং করে ৩১ গড়ে ৮৭ উইকেট লাভ করেছেন।

অথচ, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অসাধারণ খেলা উপহার দিলেও আর তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। অংশগ্রহণকৃত ৩১টি ওডিআই থেকে ২০.১৯ গড়ে ৪২৪ রানের সন্ধান পেয়েছেন। তবে, ঐ সময়ে ৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেন। ডিসেম্বর, ১৯৮৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উপর্যুপরী অর্ধ-শতরান পেলেও আর তাঁকে একই ছন্দে অবস্থান করতে দেখা যায়নি। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ঐ দলের বিপক্ষে ৪৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান তুলেন। দুই দিন পর বরোদায় ৩৬ বলে ৫০ রান তুলেন। পরের ইনিংসটি কেনসিংটন ওভালে ছিল। ৪৮ বল থেকে অপরাজিত ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২০০০ সালে খেলা গড়াপেটা কেলেঙ্কারীতে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজীকরদের সাথে সম্পর্ক রাখার কারণে তাঁকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়। সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সালে দিল্লির জেলা আদালত থেকে তাঁকে সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। মন্নান শর্মা নামীয় সন্তানের জনক।

Similar Posts

  • |

    সিড বার্নস

    ৫ জুন, ১৯১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যানানডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। চমৎকার ক্রিকেটার ও অদ্ভূত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয় দলের’ সদস্য ছিলেন। সচরাচর ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে খেলতেন। অগণিত দূর্ভাগা খেলোয়াড়ের অন্যতম…

  • | |

    লিটন দাস

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা…

  • |

    হ্যাডলি হাওয়ার্থ

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে অকল্যান্ডের গ্রে লিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের সূচনালগ্নে নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ধীরগতিসম্পন্ন বোলার ও নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, তাঁর বোলিং তেমন দৃষ্টিনন্দন ছিল না। সব মিলিয়ে মাত্র দুইবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ…

  • |

    হ্যারল্ড লারউড

    ১৪ নভেম্বর, ১৯০৪ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নানকারগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে সন্দেহাতীতভাবে সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন। প্রায়শঃই ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • | |

    ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল…

  • |

    চার্লস মিলস

    ২৬ নভেম্বর, ১৮৬৭* তারিখে লন্ডনের পেকহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কিম্বার্লী ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮ থেকে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম…