|

আনোয়ার হুসাইন

১৬ জুলাই, ১৯২০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে করাচী, বোম্বে, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাকিস্তানের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম বল মোকাবেলা করার কৃতিত্বের অধিকারী হন। ডিসেম্বর, ১৯৪৭ সালে লাহোরে সিন্ধুর সদস্যরূপে পশ্চিম পাঞ্জাবের বিপক্ষে এ অর্জনের বিষয়টি তিনি অবগত হননি। ১৯৯০-এর দশকে ঐ খেলাটি প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিল।

১৯৪০-৪১ মৌসুমের পেন্টাগুলার ট্রফিতে মুসলিমের সদস্যরূপে দ্য রেস্টের বিপক্ষে ২০ বছর বয়সে প্রথম খেলেন। রঞ্জী ট্রফিতে নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও বোম্বের দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন ও ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দলের আপদকালীন সময়ে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন।

ভারত বিভাজনের পর করাচীতে বসবাস করতে থাকেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে সিন্ধু দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের দুইটি সেরা সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। এছাড়াও, ৪/৬৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়াসহ ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলের পরাজয় রোধ করতে সক্ষম হন। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ লাহোরে অনানুষ্ঠানিক টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন।

একই মৌসুমে সিলন গমন করেন। অনানুষ্ঠানিক টেস্টগুলোয় বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। তবে, এ পর্যায়ের ক্রিকেটে খুব কম সময়ই নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। ডিসেম্বর, ১৯৫১ সালে করাচীতে এমসিসি’র বিপক্ষে দৃঢ়চিত্তে ৪৮ রান তুলেন। নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। অধিনায়ক এ. এইচ. কারদারের সাথে ৮৩ রানের জুটি গড়ে অপ্রত্যাশিতভাবে দলের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী জুলাইয়ে পাকিস্তানের টেস্ট মর্যাদা লাভে সম্যক প্রভাব বিস্তার করে।

এর স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সফরে দলের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় করাচী দলের অধিনায়কত্ব করেন। ২০ বছর বয়সী হানিফ মোহাম্মদের পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দেন এবং হানিফ মোহাম্মদের অপর ভ্রাতৃদ্বয় ওয়াজির মোহাম্মদ ও রইস মোহাম্মদের শতরানের কল্যাণে কম্বাইন্ড সার্ভিসেসের বিপক্ষে করাচী দল নয় উইকেটে জয় পায়।

১৯৫২ সালে পাকিস্তানের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পাকিস্তানের শুরুরদিকের অন্যতম টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। আব্দুল কারদার ও আমির ইলাহী ব্যতীত বাদ-বাকী সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসে ৪ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭০ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সিরিজের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৫ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। তবে, সিরিজে অংশগ্রহণকৃত চার টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৪২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন ও একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। এ সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এরপর, আর তাঁকে পাকিস্তানের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৯ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ৮২ বছর ৮৫ দিন বয়সে পাঞ্জাবের লাহোরে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট খেলার ৫০ বছর পূর্তির মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Similar Posts

  • | | | |

    বব সিম্পসন

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মারিকভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের…

  • | | | | |

    শ্রীনিবাসরাঘবন বেঙ্কটরাঘবন

    ২১ এপ্রিল, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, রেফারি ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বেঙ্কট’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয়…

  • | |

    শুজাউদ্দীন

    ১০ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে নর্দার্ন পাঞ্জাব, সার্ভিসেস, বাহাওয়ালপুর,…

  • | | |

    আকরাম খান

    ১ নভেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধ্বে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুরদিকের প্রকৃত মানসম্পন্ন ক্রিকেট তারকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। কোমড় বেশ মোটা ও স্থূল দেহের অধিকারী ছিলেন। চট্টগ্রামের সূর্যসন্তান হিসেবে…

  • |

    মারভিন গ্রেল

    ১৮ ডিসেম্বর, ১৮৯৯ তারিখে ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খাঁটিমানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ও বিশ্বস্ত মিডিয়াম-পেসারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম…

  • | | |

    মিসবাহ-উল-হক

    মে, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভসহ সর্বাপেক্ষা সফল টেস্ট অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ওয়াসিম আকরামকে পাশ কাটিয়ে ওডিআইয়ে…