৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০তম বর্ষে পদার্পণ করে ১০ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ডগ ওয়াল্টার্সের সাথে একযোগে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল। প্রথম ইনিংসে নতুন বল নিয়ে আক্রমণে নামেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মাইক স্মিথ তাঁর বলে বোল্ড হন। ২/৫৮ ও ২/২৫ লাভ করেন। খেলায় ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
মেলবোর্নের দ্বিতীয় টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সিডনির তৃতীয় টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। পূর্ববর্তী গ্রীষ্মে শেফিল্ড শীল্ডে দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। এরফলে, বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের জন্যে মনোনীত হন। কিন্তু, এ সফরের কোন টেস্টেই তাঁকে খেলানো হয়নি। ঐ বছরটি তাঁর জন্যে সোনায় সোহাগা ছিল। পরের মাসে বল হাতে নিয়ে দশ-উইকেট কব্জা করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে এমসিজিতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১০/৬১ লাভ করেন। ইনিংসের শুরু থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ৮ বল নিয়ে গড়া ১৫.৬ ওভার বোলিং করেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ভিক্টোরিয়া দল রুখে দাঁড়ায়। ০/৬৩ পান ও প্রতিপক্ষীয় দল জয় তুলে নেয়। ১৯৩৩ সালে টিম ওয়ালের পর শেফিল্ড শীল্ড প্রবর্তনের ৭০ বছর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ সাফল্য পান। পরবর্তীতে, ১৯৬৭ সালে ইয়ান ব্রেশ’ এ সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
মার্চ, ১৯৬৬ সালের গ্রীষ্মে আরও একবার নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ব্রিসবেনের ক্লাব ক্রিকেটে ইনিংসে দশ-উইকেট লাভ করেন। অর্থাৎ, তিন মাসের ব্যবধানে দুইবার এ কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯৬৯ সালে শেফিল্ড শীল্ড থেকে অবসর নেন। ২৫.২৯ গড়ে ১৮২ উইকেট দখল করে রাজ্য দলের সর্বাধিক উইকেট লাভের তৎকালীন রেকর্ড হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেন।
ক্রিকেট থেকে চলে আসার পর ডব্লিডি এন্ড এইচও উইলস নামীয় তামাক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তবে, তিনি ধূমপায়ী ছিলেন না। তরুণ অবস্থায় মেলবোর্নের তেলের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু, ভিক্টোরিয়া দলে খেলার সুযোগ পাননি। কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন।
ব্রিসবেন সিটি কাউন্সিলে ২০ বছর কাজ করেন। তন্মধ্যে, ১৯৮২ সালে কমনওয়েলথ গেমস স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। গাব্বার কয়েক কিলোমিটার দূরে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। সন্তানকে নিয়ে পানশালা পরিচালনা করেছেন। ২২ জুন, ২০২৩ তারিখে ৮৭ বছর ১৭৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
