১৬ মার্চ, ১৯২০ তারিখে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জেসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মাত্র তিন মাস তিন দিন বয়সে পরিবারের সাথে রোডেশিয়ায় চলে আসেন ও এরপর থেকে বুলাওয়েতে রয়ে যান। মিল্টন জুনিয়র স্কুলে ভর্তি হন। কিশোর অবস্থায় টেনিসে শিরোপা জয় করেছিলেন। তবে, স্বীয় পিতা জেরাল্ড লেডবোয়েরের সাহচর্য্যে ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। ১৯৩১ সালে বিদ্যালয় ক্রিকেট দলে খেলেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মিল্টনের প্রথম একাদশের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে, বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে থাকাকালে মাতাবেলেল্যান্ড ও পরবর্তীতে ডিসেম্বর মাসে রোডেশিয়ার সদস্যরূপে ট্রান্সভালের বিপক্ষে খেলেন।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ বছর বয়সে বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৩৬ সালে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ট্রান্সভালের বিপক্ষে খেলেন। টনি হ্যারিস ও এন. কুকের উইকেটসহ স্লিপ অঞ্চলে বিস্ময়করভাবে দুই ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দুই বছর পর বুলাওয়েতে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৫১ ও ১৯৫৫ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড এবং ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অস্ট্রালেশিয়া গমনের সুযোগ পান। ১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৬ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, রোডেশিয়ার স্বল্প কয়েকজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকে।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলেন। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৭ ও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৫ সালে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯২ রানে পরাজিত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
চশমা পরিহিত অবস্থায় ঊনষাট বছর বয়সেও খেলেছিলেন। ১৯৬২ সালে রাণীর নববর্ষের সম্মাননা হিসেবে ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, নবপ্রতিষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়ন কন্ট্রোল বোর্ডের সাথে যুক্ত থাকেন। ১৯৮৫ সালে কেপ প্রভিন্সে চলে আসেন ও গল্ফ খেলতেন। ১৯৯৪ সালে একবার বল তাঁর হাতে আঘাত হানে ও ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে।
ব্যক্তিগত জীবনে অকৃতদার ছিলেন। ৯ মে, ১৯৯৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সমারসেট ওয়েস্ট এলাকায় ৭৫ বছর ৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
