১ জুলাই, ১৯২৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪৯ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর পূর্বে দীর্ঘদিন ব্রাডফোর্ড লীগে খেলেছেন। ১৯৪৯ সালে তারকা ক্রিকেটার লেন হাটনের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করতে থাকেন। তাঁর সাফল্যে ম্লান হলেও ঐ মৌসুমে তিনিও কম যাননি। ১৭৯৯ রান তুলেছিলেন। পরের মৌসুমে আরও ভালো করেন। পাঁচ শতক সহযোগে ২১৫২ রান তুলেন। ব্যাটিংয়ের ধরনের কারণে লেন হাটনের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে উঠে ও তিনি হাটনের প্রতিচিত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে নিজ দেশে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। পিটার মে ও ডন ব্রেনানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে অর্ধ-শতরানের মনোজ্ঞ ইনিংস খেলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের দুই অর্ধ-শতকের অপরটি স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ পর্যায়ে লিওনার্ড হাটনের সাথে ৯৯ রানের জুটি গড়ে বিশ্ব টেস্ট অঙ্গনে প্রথমবারের মতো আলোচনায় চলে আসেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকে।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে শীর্ষসারির কয়েকজন খেলোয়াড় ভারত, পাকিস্তান ও সিলন গমনে অস্বীকৃতি জানালে তিনি এ সুযোগ গ্রহণ করেন। এ সফরে সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। তবে, দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৬৮ রানের ইনিংস খেলার পর আর এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। ১৮ গড়ে ১৪৫ রান তুলেন। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন।
ইংরেজ গ্রীষ্মে বিশালসংখ্যক রান তুলতে থাকেন। ১৯৫৪ সালে ছয়টি শতরানের সন্ধান পান। তবে, এ সময়ে লেন হাটন খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে গেলে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ শূন্যস্থান পূরণে তৎপর হয়। কিন্তু, ১৯৫৫ সালের গ্রীষ্মে বাজে সময় অতিবাহিত করেন। দৃশ্যতঃ তাঁকে ঘিরে দীর্ঘদিন ইংল্যান্ড দলে খেলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছিল।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। উইলি ওয়াটসনের পরিবর্তে খেলেন। উভয় ইনিংসে ট্রেভর গডার্ডের শিকার পরিণত হন। ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২২৪ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৫৮ সালের পর ইয়র্কশায়ারের নতুন অধিনায়ক হিসেবে রনি বার্নেটকে দায়িত্ব দেয়ার পর জনি ওয়ারডল ও বব অ্যাপলইয়ার্ডের সাথে একযোগে বাদ পড়েন। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনি পনেরো হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর বীমা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে ইয়র্কশায়ারের পুল-ইন-হোয়াফিডেল এলাকায় ৫৯ বছর ৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
