৩১ ডিসেম্বর, ১৮৯৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
পরিচ্ছন্ন খেলা উপহারের দিকে সবিশেষ নজর রাখতেন। অবিরাম বোলিং করতে পারতেন। ম্যাটিং উইকেটে বেশ কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২-১৩ মৌসুম থেকে ১৯২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৯১৩ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জো কক্স, হ্যারল্ড বমগার্টনার, আলফ্রেড কুপার, ডাস্টি ট্যাপস্কট, ফিলিপ হ্যান্ডস ও প্লাম লুইসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬* ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৭ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ডব্লিউ রোডসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/৪৬। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ১২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১২ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ সিরিজে ২২.৫২ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেছিলেন।
একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জোহানেসবার্গের ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪* ও ৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৪ ও ৩/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৯১ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর ১৯২১-২২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২ উইকেট ও পরবর্তী মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪.৫২ গড়ে আরও ২৫ উইকেট লাভ করেছিলেন।
১৯২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৮৩। খেলায় তিনি ৫/৭৮ ও ২/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এইআর জিলিগানকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৭৮। খেলায় তিনি ৬/৭৬ ও ৩/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ৩০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ১৬৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এডব্লিউ কারের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৬ ও ১/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৬* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। টেস্টগুলোয় বেশ নিষ্প্রভ ছিলেন। এ সফরে ২২ গড়ে ১১৯ উইকেট পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে নেলসনের পক্ষে চার মৌসুম দারুণভাবে খেলেছেন। গুজব রটে যায় যে, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নাজীদের সমর্থন করেছিলেন। ১৯৫৫ সালে জার্মানির পশ্চিম বার্লিনে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
