৮ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। দীর্ঘদিন পাঞ্জাব দলের অন্যতম ব্যাটিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অবস্থানের চিত্রটি ভিন্নতর ছিল। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী পাঞ্জাব দলের সদস্যরূপে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন।
৪৩ গড়ে ৫৭১৯ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলার বিপক্ষে মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রায় দশ ঘণ্টা ব্যাটিং করে ২৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলা দল ৫৯৪ রান তুলে। তবে, দলীয় সঙ্গীদের অভাবে পাঞ্জাব দল ৪৭ রানে পিছিয়ে থাকে। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে পাঞ্জাব দল সেমি-ফাইনালে অংশ নিতে পারেনি। অপর প্রান্তে উইকেট পতন অব্যাহত থাকলেও তিনি স্থিরলয়ে অগ্রসর হতে থাকেন।
অবশেষে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় ও স্বীকৃতি দেয়। নিউজিল্যান্ড গমনার্থে ভারত দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। ১৯৯০ সালে ভারতের পক্ষে একমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। ইডেন পার্কে অনু্ষ্ঠিত ঐ টেস্টে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইয়ান স্মিথের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্র হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
পক্ষকালের মধ্যেই নিজস্ব একমাত্র ওডিআই থেকে ৪ রান তুলতে পেরেছিলেন। একই সফরের ৮ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত রথম্যান্স কাপে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পর আর তাঁকে খেলতে দেখা যায়নি।
এর ছয় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আহমেদাবাদ টেস্টে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আঘাতপ্রাপ্ত রজার বিনি’র পরিবর্তে মাঠে নেমে ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, জেফ ডুজন ও ম্যালকম মার্শালের ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সংগৃহীত ক্যাচ তালুবন্দীকরণের বিষয়টি অদ্যাবধি বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।
পরবর্তী মৌসুমে অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেন ইরানী কাপে। বাদ-বাকী ভারত দলের খেলায় কোন জয়ের সম্ভাবনা ছিল না। ইরানী কাপে অভিষেক ঘটা শচীন তেন্ডুলকর ৮৯ রানে ব্যাটিং করছিলেন; ফলশ্রুতিতে তাঁকে ভাঙ্গা হাত নিয়েই এগারো নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নামতে হয়। কেবলমাত্র বামহাতেই গ্লাভস পড়েছিলেন ও তেন্ডুলকরের শতক হাঁকাতে ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় শচীন তেন্ডুলকর খেলেছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে পাঞ্জাবের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ব্যাট হাতে সম্মুখসারিতে খেলে দলকে পরিচালনা করেন ও রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন। স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেডে চাকুরী করতেন ও পাঞ্জাব দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। গুড়গাঁওয়ে কোচিং একাডেমি পরিচালনা করছেন। নয়টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, ছয়টি লিস্ট-এ ক্রিকেট ও সাতটি টি২০ খেলায় ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
