২৭ অক্টোবর, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাট হাতে খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। প্রায় দুই দশকব্যাপী তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রায়শঃই মহারাষ্ট্রের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতে হতো তাঁকে। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে তিন মৌসুম ঐ দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গড়ে ১৭ রান পেলেও ঐ সময়ে উইকেট-রক্ষকদের কাছ থেকে দুই অঙ্কের কোটা অতিক্রমের প্রত্যাশা করা হতো না। এক পর্যায়ে ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৮০টি ডিসমিসাল ঘটান। তন্মধ্যে, ১১৯টি ক্যাচ ছিল।
১৯৫১ থেকে ১৯৬০ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে দিল্লির কোটলায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলেন। পঙ্কজ রায়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে দুই ক্যাচ ও দুই স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা সাফল্যরূপে বিবেচিত হয়। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড সফর করেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ইংল্যান্ড, ১৯৫২-৫৩ ও ১৯৬০-৬১ মৌসুমে পাকিস্তান, ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
নিচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যান ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে ১১ নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নামতেন। তবে, ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে কুইন্স পার্ক ওভাল টেস্টে বিনু মানকড় আঘাত পেলে ব্যাটিং উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ৩২ রান তুলেছিলেন তিনি। মাধব আপ্তে’র সাথে ৫৫ রানের জুটি গড়েন।
১৯৬০-৬১ মৌসুমে বোম্বে টেস্টে চমৎকার ইনিংস উপহার দেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত টেস্টে দলের সংগ্রহ ৩০০/৮ থাকা অবস্থায় রামাকান্ত দেশাইয়ের (৮৫) সাথে নবম উইকেট জুটিতে ১৪৯ রান তুলেন। অদ্যাবধি এটিই ভারতের শেষ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। তিনি করেন ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস। দূর্ভাগ্যজনকভাবে হানিফ মোহাম্মদকে বিদেয় করতে ব্যর্থ হন। বিস্ময়করভাবে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট ছিল ও তাঁকে আর ভারতের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।
নরেন তামানে না থাকলে তিনিই হয়তোবা স্ট্যাম্পের পিছনে দণ্ডায়মান প্রবীর সেনের আদর্শ উত্তরসূরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারতেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৯৫০-এর দশকের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে তাঁদেরকে উইকেট-রক্ষণে অদল-বদল করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি ১২ টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেও নরেন তামানে ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সুজিত মুখোপাধ্যায় তাঁর উইকেট-রক্ষণ সম্পর্কে লিখেছেন যে, ‘প্রায়শঃই দর্শনীয় ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। বলের গতি ও ক্ষীপ্রতার সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে অগ্রসর হতেন তিনি। এ অর্জনগুলো দারুণ হলেও মাঝে-মধ্যেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতো।’ দূর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের সর্বকালের সেরা উইকেট-রক্ষকদের অন্যতম নরেন তামানে’র ন্যায় তিনি ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। বাজে দিনগুলোর পাশাপাশি দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে থেকেও মাঝে-মধ্যেই উপেক্ষিত হতেন।
স্নাতকধারী ছিলেন। স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাকুয়াম রিফাইনিং কোম্পানিতে (পরবর্তীতে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম) চাকুরী করতেন। ৮ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে ৬০ বছর ৭৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
