২৩ জুন, ১৮৯০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের র্যাডক্লিফ-অন-ট্রেন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বৃক্ষ পরিচর্যাকারী থমাস ও জেন দম্পতির পাঁচ সন্তানের অন্যতম ছিলেন। দ্য শেরউড ফরেস্টার্সে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, ১ মার্চ, ১৯১৯ তারিখে গ্যাসট্রিটিসের কারণে অব্যহতি পান। নটস ক্যাজুয়ালসের মাধ্যমে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিতেন।
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন ‘টিচ’ ডাকনামে ভূষিত টম রিচমন্ড। নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিংয়ের চেয়ে বলে স্পিন আনয়ণের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯১২ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ার বনাম মিডলসেক্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ বছরই প্রথম একাদশে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন।
১৯২০ সালে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পরবর্তীতে, আরও পাঁচবার এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। ১৯২২ সালে ১৬৯ উইকেট দখল করে নটিংহ্যামশায়ারের নতুন রেকর্ড দাঁড় করান। পরবর্তীতে, ১৯৫৪ সালে ব্রুস ডুল্যান্ড তাঁর এ রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেন। ১৯২৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। এছাড়াও, ১৯২০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে লিচেস্টারশায়ার ও ১৯২২ সালে ব্রামল লেনে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে চার বল থেকে তিন উইকেট আদায় করেছিলেন। ১৯২০ ও ১৯২৩ সালে নর্থের সদস্যরূপে সাউথের বিপক্ষে খেলেন।
১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডোনাল্ড নাইট, আর্নেস্ট টিল্ডস্লে, পার্সি হোমস ও ভ্যালেন্স জাপের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ২ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮৬ লাভ করেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রথম কয়েক মৌসুম কেন্টের টিচ ফ্রিম্যানের সাথে ইংল্যান্ডের সেরা লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ১৯২৬ সালের পর থেকে তাঁর বোলিংয়ের কার্যকারিতা কমতে থাকে। ক্রমাগত ওজন বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র দৈহিক গড়নের কারণে বোলিংয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এক পর্যায়ে নটিংহ্যামশায়ার একাদশ থেকে বাদ পড়েন। পাশাপাশি, ভোসের ন্যায় তরুণ ক্রিকেটারের দাপটও এতে যুক্ত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯২৩ সালে গ্রান্থামে মেরিওন সেনেস্কল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা ছিল। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের স্যাক্সনডেল এলাকায় ৬৭ বছর ১৮৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
