|

রাজু কুলকার্নি

২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত খেলেন। ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বলে পেস কমিয়ে দেন ও নিখুঁততার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

রঞ্জী ট্রফিতে দারুণভাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। গুজরাতের বিপক্ষে খেলায় ৩/৪৫ পান। এরপর, সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫/৯৯ ও পরের খেলায় ওড়িশার বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে ৭/৬০ পান। সেমি-ফাইনালে দিল্লির বিপক্ষে ৮/১১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালে মাত্র চার খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। চূড়ান্ত খেলায় কর্ণাটকের বিপক্ষে আরও একবার পাঁচ-উইকেট পেলে ঐ মৌসুম শেষে ১৮.০০ গড়ে ৩০ উইকেট দখল করেন। পরের মৌসুমে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী ওডিআই খেলার জন্যে দলে রাখেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ভীতিদায়ক বাউন্সার মারতেন। ২১ বছর বয়সে ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত সফররত ও প্রবল শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন। তেমন মন্দ না খেললেও বাদ পড়েন। সফরকারী দল বিজয়ী হলেও তরুণ বোলার হিসেবে নির্ধারিত নয় ওভারে মিতব্যয়ী বোলিং করেছিলেন। ক্রমাগত উইকেট লাভের প্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সাথে যান। একটিমাত্র প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়ে ১১ ওভার বোলিং করেছিলেন। তিনটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েও আশাপ্রদ সফলতা পাননি।

জরুরীভিত্তিতে টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হয়। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৫ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক খেলায় দলীয় অধিনায়ক কপিল দেব তাঁকে প্রথম ওভার বোলিং করার সুযোগ দেন। ব্যাটসম্যানের উপযোগী পিচে ৩/৮৫ পান। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে তাঁকে দূরে রাখা হয়। মনিন্দার সিংকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁকে পঞ্চম বোলার হিসেবে খেলানো হয়। এখানেও তিনি খারাপ করেননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

এরপর, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের শুরুতে সাফল্য পেলেও অভিজ্ঞতায় পূর্ণ ব্যাটিংনির্ভর দলের বিপক্ষে রান খরচ করতে থাকেন। ৭ ওভারে ১/৪২ পান। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ৫ ওভারে ১/১৫ পান। নিজস্ব তৃতীয় ও শেষ টেস্টে তাঁকে এভাবেই খেলানো হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মাত্র ১৩ ওভারে ৩৮ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত দল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের চেষ্টা চালায়। দলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হন ও ৭ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তাসত্ত্বেও বিশ্বস্ততার সাথে এক দশক বোম্বে দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ৩২.৯৯ গড়ে ২৩২ উইকেট পান। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে চার খেলায় বোম্বে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ঐ বছরই তিনি অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রয় ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন।

Similar Posts

  • | |

    মোহাম্মদ নবি

    ১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে সোভিয়েত যুদ্ধ পরবর্তী আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি পান। ডানহাতে মাঝারিসারিতে দূর্দান্ত খেলেন। পাশাপাশি আলতো অফ-স্পিন বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের প্রথম ওডিআই ও প্রথম টেস্টের সাথে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, আফগানিস্তান দলের অধিনায়কত্বের…

  • | |

    কেন মিউলম্যান

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    সেস ডিক্সন

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে ট্রান্সভালের পচেফস্ট্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিনের আদলে প্রায় মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ১৯১২-১৩…

  • | |

    ববি পিল

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের চারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮৮২ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের সেরা…

  • |

    পথুম নিসাঙ্কা

    ১৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক ইসিপাথানা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • |

    স্নাফি ব্রাউন

    ৮ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে বার্বাডোসের রবার্ট টেনান্ট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করলেও ছোটবেলা থেকেই গায়ানায় বসবাস করতে থাকেন। সেখানে ক্রিকেট খেলা শেখেন ও ক্রিকেট জীবনের অধিকাংশ সময় খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…