২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডার্লিংহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮০ সালে সিডনি প্রথম গ্রেডে প্রথমবারের মতো খেলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও তাসমানিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ব্লুজের পক্ষে ৪৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, তাসমানিয়ায় চলে যান। সেখানে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রাহাম গুচের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৪ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ০* ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ওয়াকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১২* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জেভি কোনিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১০২। বল হাতে নিয়ে ১/৭৫ ও ৩/৪৮ লাভ করেন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি’র অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে তিনি ২/১০৬ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক টাই টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
১৫ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান তুলতে পেরেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩৫৪ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৯২ সালে পিঠের আঘাতের কারণে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। কুইন্সল্যান্ড স্পোর্ট একাডেমির প্রথম কোচ ছিলেন। এ পর্যায়ে রাজ্য দলটি প্রথমবারের মতো শীল্ডের শিরোপা জয় করেছিল। এছাড়াও, ২০২০ সাল থেকে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। দ্বিতীয় স্তরের আম্পায়ার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
২০০১ থেকে ২০১৩ সময়কালে মোট এগারো বছর ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, ব্রেট লি প্রকাশ্যে দলের পিছিয়ে পড়ার সমালোচনার জের ধরে পদত্যাগ করেন। এর পূর্বে চার বছর ইংরেজ কাউন্টি দল সাসেক্সের প্রশাসনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তন্মধ্যে, দুই বছর প্রধান নির্বাহী ছিলেন। এছাড়াও, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সময়কালে ওয়েস্টার্ন সাবার্বস ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ২০০৬ সালে দলটির শতাব্দীর সেরা দলের অন্যতম সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৪ সালে ক্রিকেট এনএসডব্লিউ’র আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত হন।
