|

বিল হাওয়েল

২৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম দুই খেলায় অংশ নেয়ার পর বাদ পড়েন। এরপর দলে ফিরে এসে নিয়মিত সদস্যে পরিণত হন।

১৮৯৮ সালে সিডনিতে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে পৌণে এক ঘণ্টায় ৪৮ রান তুলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে এক ঘণ্টারও কম সময় নিয়ে ৯৫ রানের ইনিংস খেলেন। কেবলমাত্র বাউন্ডারি থেকেই ৭৬ রান আদায় করে নিয়েছিলেন।

১৮৯৮ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৭০ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁর ন্যায় অপর কেউ প্রথম অংশগ্রহণে দারুণ খেলা প্রদর্শন করতে পারেননি। ১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় দলের সদস্যরূপে তৃতীয় খেলায় সারের পুরো একাদশকে একাই গুটিয়ে দেন। ২৩.২-১৪-২৮-১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পিচের অবস্থা কি রকম ছিল তা বিবেচ্য বিষয় ছিল না; তবে, অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী যে প্রদর্শন করেছিলেন তাতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়।

পাঁচ টেস্ট থেকে খুব কমই সফল হয়েছিলেন। ৪৩ গড়ে মাত্র আট উইকেট দখল করেন। শুরুটা তেমন ভালো না করলেও পুরো মৌসুমে দারুণ খেলেন। ২০.৩৫ গড়ে ১১৭ উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে, বোলিং গড়ে হিউ ট্রাম্বল ও আর্নেস্ট জোন্সের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকেন। তবে, তাঁরা তাঁর তুলনায় অধিক উইকেট পেয়েছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টগুলো থেকে ১২.৪২ গড়ে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন। ম্যাটিং পিচে বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৯০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৮ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চার্লি লিউইলিনের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, ২/৫২ ও ৩/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৫৯ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৮ নভেম্বর, ১৯০২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৭০। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। জেজে কোৎজেকে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১৮। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১৮ ও ৫/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জানুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৮ ও ২/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, *৩ ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২১৬ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথে মৌচাষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডব্লিউএইচ হাওয়েল নামীয় সন্তানের জনক। ১৪ জুলাই, ১৯৪০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাসলরিগ এলাকায় ৭০ বছর ১৯৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মার্টিন গাপটিল

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ট্রাক দূর্ঘটনায় পায়ের তিনটি আঙ্গুল হারালে দলীয় সঙ্গীরা মজা করে তাঁকে ‘টু টোজ’ নামে ডাকতো। তবে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চিত্তে ঐ দূর্ঘটনা থেকে নিজেকে সামলে নেন। এ…

  • | |

    চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নিবিড় ধাঁচ অবলম্বন ও অটল প্রকৃতি নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। রোশন মহানামা’র সাথে অদমনীয় জুটি গড়তে সচেষ্ট ছিলেন। পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে…

  • |

    বার্নার্ড ট্যানক্রেড

    ২০ আগস্ট, ১৮৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘এবি’ ডাকনামে ভূষিত বার্নার্ড ট্যানক্রেড গ্রাহামসটাউনভিত্তিক সেন্ট এইডান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ট্যানক্রেড ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। স্নাতক…

  • |

    কামিন্ডু মেন্ডিস

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করছেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। গলেভিত্তিক রিচমন্ড কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ষোড়শ জন্মদিন উদযাপনের পূর্বেই শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯…

  • |

    জনি ওয়ারডল

    ৮ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের আর্ডস্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা লেফট-আর্ম রিস্ট স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | |

    জ্যাক ইকিন

    ৭ মার্চ, ১৯১৮ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের বিগনল এন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সচরাচর খেলায় সচেতনতার পরিচয় দিতেন।…