|

বিজয় ভরদ্বাজ

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘আর বিজয়’ নামে পরিচিত বিজয় ভরদ্বাজ পরিচ্ছন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও অফ-স্পিনার ছিলেন। চশমা পরিধান করে খেলায় নামতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধারা বহমান করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন ও দৃষ্টিনন্দন অফ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে চার শতক সহযোগে ৮১.২৭ গড়ে ১৪৬৩ রান এবং ২৪.০৪ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় ১২৮০ রান তুলেন। এরফলে, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ঐ প্রতিযোগিতার এক আসরে ১২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শের গৌরব অর্জন করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় পর্যায়ে খেলার পথ সুগম হয়।

১৯৯৯ থেকে ২০০২ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত এলজি কাপে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় ১/১৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরপর, ৩/৩৮, ৩/৩৪ ও ৩/৩৪ করে ক্রিকেট প্রতিভায় পরিপক্কতার কথা ঘোষণা করেন। সবমিলিয়ে ১২.২০ গড়ে ১০ উইকেট ও কোন আউট ব্যতিরেকেই ৬৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সুন্দর এ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ অভিষেক সিরিজেই ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পান।

কিন্তু নিজ দেশে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই কিংবা টেস্টের কোনটিতেই তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। তাসত্ত্বেও, তাঁকে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দেবাং গান্ধী ও এমএসকে প্রসাদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জবাগল শ্রীনাথের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ায় দলের বিপর্যয়কর সফরের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে আর দলে রাখা হয়নি। প্রথমে তাঁর বোলিংয়ের মান পড়তির দিকে যেতে থাকে। তারপর রান সংগ্রহের গতি কমে যায়। ২ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহ করলেও আঘাতের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামতে পারেননি। এছাড়াও, ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১৪১ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে থাকেন। ২০০৩ সালে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরেও খেলায় উত্তরণ ঘটাতে পারেননি। ২০০৫-০৬ মৌসুম শেষে ক্রিকেট খেলাকে বিদেয় জানান।

Similar Posts

  • | | |

    আশীষ নেহরা

    ২৯ এপ্রিল, ১৯৭৯ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী…

  • | |

    গ্যারি স্টিড

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। খাঁটিমানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। পিতা ডেভিড ক্যান্টারবারির পক্ষে ৮০টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও স্বীয় ভ্রাতা লিস্ট-এ ক্রিকেটে একই দলের…

  • | |

    বিজয় হাজারে

    ১১ মার্চ, ১৯১৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের অন্যতম কিংবদন্তীতূল্য ব্যাটসম্যান। চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও দলীয় সঙ্গী বিজয় মার্চেন্টকে সাথে নিয়ে বোম্বে স্কুলের অগ্রযাত্রায় অংশ নেন। ভারতীয় ক্রিকেটের শুরুর বছরগুলোয়…

  • |

    গোগুমাল কিষেনচাঁদ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা, গুজরাত, সিন্ধু ও…

  • |

    মৈয়াঙ্ক আগরওয়াল

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। প্রণব কুমার পাণ্ডে ও সুচিত্রা সিং দম্পতির সন্তান তিনি। একই এলাকা থেকে রাহুল দ্রাবিড়ের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়ের উত্থান ঘটলেও তাঁর…

  • | | |

    কেন ব্যারিংটন

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৩০ তারিখে বার্কশায়ারের রিডিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব কম…