| | | |

বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা

২৮ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেনারসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘ভিজ্জি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ভারতের সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আজমীরের প্রিন্সেস কলেজ ও ইংল্যান্ডের হেইলিবারি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বিজিয়ানাগ্রামের শাসক পুষ্পপতি বিজয়রাম গজপতি রাজুর জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। তাঁরই ছত্রচ্ছায়ায় থেকে সিকে নায়ড়ু ও ওয়াজির আলী’র ন্যায় তারকা খেলোয়াড় তাঁদের খেলোয়াড়ী জীবনকে বিস্তৃত করতে পারতেন ও লালা অমরনাথ নিষ্কলুষ খেলোয়াড়ী জীবন গড়তে পারতেন। দ্বিতীয় সন্তান হবার সুবাদে পিতার রাজ্যের শাসনভার গ্রহণের উপযোগী বলে বিবেচিত হননি ও এর পরিবর্তে ভারতীয় ক্রিকেটে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৩০-৩১ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে ইউনাইটেড প্রভিন্স ও বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজকুমার একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩৬ সালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৩২ সালের ইংল্যান্ড সফরে দলের উপ সহঃঅধিনায়কের দায়িত্ব পালনের জন্যে মনোনীত হলেও নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ১৯৩৬ সালে সিকে নায়ড়ুকে পাশ কাটিয়ে ইংল্যান্ড সফরে ভারত দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দত্তারাম হিন্দলেকরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সর্বশেষ খেলেন। উভয় ইনিংসে ১ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হলেও এ টেস্টে স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধান সিরিজ জয় করে। সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৬ ইনিংস থেকে ৩৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ৫ ইনিংসেই নয় অবস্থানে নেমেছিলেন ও কোন বোলিং করেননি। তবে, প্রস্তুতিমূলক খেলায় তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেছিলেন। এ সফরে ১৬.২৫ গড়ে রান পেয়েছিলেন। তবে, এ গড়ও নিষ্প্রভ হয়ে যায়। প্রায়শঃই প্রতিপক্ষীয় বোলারদেরকে মূল্যবান উপহার দেন ও তাঁদেরকে নমনীয় বোলিং করতে অনুরোধ করেন।

তাসত্ত্বেও মাঠের বাইরে তাঁর ভূমিকা সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সম্ভবতঃ এ সফরেই তিনি তাঁর সুগভীর উচ্চাশা নাইটহুড পদবী ধারনের স্বপ্ন পূর্ণ করেন। ১৫ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে নাইটধারী হন। এ সফরে ভারতীয় একাদশ দুইটি বিজয়ের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত রাখে। অংশগ্রহণকৃত ছয় ইনিংস থেকে মাত্র ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন।

ভারতের সর্বাপেক্ষা লজ্জ্বাস্কর ও বিদ্রুপকারী হিসেবে সকল ভারতীয় ক্রিকেটারের নীচে ঠাঁই পেয়েছেন। তাঁর তুলনায় হয়তোবা আরও বাজে ক্রিকেটার রয়েছেন, তবে, স্বল্পসংখ্যকদের অন্যতম হিসেবে দানবে পরিণত হয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।

ইমরান খান তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, তিনি ব্যাট, বল, ফিল্ডিং কিংবা দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। অথচ, প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলা চলমান রাখা অবস্থায় নাইট পদবীতে ভূষিত হয়েছেন। ইচ্ছে করলেই তিনি হয়তোবা পিছিয়ে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন ও নিজেকে সেরাদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারতেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। ৪৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ১৮.৬০ গড়ে ১২২৮ রান তুলেছেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৭ সময়কালে বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কাকতালীয়ভাবে সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালকালে লালা অমরনাথকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন। উত্তরপ্রদেশে ক্রিকেটের বিস্তার ঘটান, কানপুরে টেস্ট কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। আরও একবার ৬১ বছর বয়সী নায়ড়ুকে উত্তরপ্রদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

১৯৫৮ সালে দ্বিতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান এভি বেঙ্কটেশ সিং ১৯৬০-এর দশকে উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে ৫৯ বছর ৩৩৯ দিন বয়সে উত্তরপ্রদেশের বেনারসে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    রয় মার্শাল

    ২৫ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে বার্বাডোসের ফারমার্স প্লান্টেশন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন এবং ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পিতা স্কটিশ বংশোদ্ভূত গম চাষী ছিলেন। মাঠেই পিচ তৈরি করে খেলতেন। দশ বছরের মধ্যেই টার্ফ, ম্যাট ও কংক্রিট পিচে…

  • |

    আবিদ আলী

    ১৬ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানে পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, ফেডারেলি এডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াজ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামাবাদ, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স-বালুচিস্তান, পাকিস্তান স্টেট ব্যাংক,…

  • | |

    টেরি অল্ডারম্যান

    ১২ জুন, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মিডিয়াম পেসার হিসেবে দৃশ্যতঃ ইংল্যান্ডের মাটিতে দূর্দমনীয় ছিলেন। সর্বদাই মৃদু হাসি নিয়ে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। যতক্ষণ বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত…

  • |

    ট্রেন্ট বোল্ট

    ২২ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে রোতোরুয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে সুইং বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শনসহ শেষেরদিকের ওভারগুলো পেস ও নিশানা বরাবর বল ফেলে চাতুর্য্যতার পরিচয় দিয়েছেন। ওয়াসিম আকরামের সাফল্যে উজ্জ্বীবিত…

  • |

    জুনায়েদ সিদ্দিকী

    ৩০ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে থাকেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে বেশ উঁচুতে ব্যাট তুলে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। তামিম ইকবালের সাথে ব্যাটিংয়ে নেমে…

  • | |

    লিটন দাস

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা…