২৭ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার নর্থ ফ্রিম্যান্টল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
পরিপাটি ও চটপটে প্রকৃতির অধিকারী তিনি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। রডনি মার্শের ন্যায় একই ক্লাবে খেলেছেন।
১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে রডনি মার্শের অংশগ্রহণের ফলে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে বিপর্যয়কর অ্যাশেজ সিরিজের শেষ দুই টেস্টে জন ম্যাকলিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ইয়ান বোথামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২০৫ রানে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেন। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমের শীতকালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ব্যাট ও গ্লাভস – উভয় বিভাগেই বেশ ভালো করেন। দিল্লি টেস্টে অর্ধ-শতক হাঁকান।
একই সফরের ৩ নভেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষের সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১০০ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দেশে ফিরে রডনি মার্শকে দলের সদস্য করা হয়। পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেও মার্শকে যুক্ত করা হয়। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মার্শের অংশগ্রহণের ফলে নিয়মিতভাবে খেলতেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে ৩৫.৬৬ গড়ে ৩২১ রান তুলেন। আবারও হোঁচট খান। ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সফরে স্টিভ রিক্সনকে ইংল্যান্ড গমনে সহকারী হিসেবে রাখা হয়। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। আবারও স্থানচ্যূতি ঘটে। ওয়েন ফিলিপসকে খেলানো হয়। অতঃপর, ৩০তম জন্মদিন পালনের কয়েকদিন পরই অবসর গ্রহণ করেন।
