২২ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে পানাদুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ধ্রুপদীশৈলীর অল-রাউন্ডার। বলে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও বেশ বৈচিত্র্যতা আনয়ণসহ নিখুঁততা আনতে পারতেন। সহজাত ও স্বাবলীল ভঙ্গীমায় শ্রীলঙ্কার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দৃপ্ত পদচারণ করছেন। পানাদুরাভিত্তিক শ্রী সুমঙ্গলা কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা সাউথ, চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, পানাদুরা স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্যান্ডি তুস্কার্স ও সাউদার্ন এক্সপ্রেসের পক্ষে খেলেছেন।
পানাদুরা এসসি’র পক্ষে প্রথম অংশ নেন। এরপর, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। এরপর থেকে দ্রুতলয়ে তাঁর উত্তরণ ঘটতে থাকে। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। এক মৌসুম চিল’ মারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেন। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্যরূপে মাত্র ৭ খেলায় অংশ নিয়ে ৫৫ উইকেট দখল করে বোলিং রেকর্ড গড়েছিলেন।
মুত্তিয়া মুরালিধরন ও সাকলাইন মুশতাককে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পালনসহ অ্যাশলে মলেট ও রুয়ান কালপেগে’র পরিচালনায় শ্রীলঙ্কান স্পিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। দক্ষতা বৃদ্ধিতে ‘স্পট বোলিং’ কৌশল প্রয়োগ করেছেন। মুরালির উপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা দলে খুব কমই অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন।
অফ-ব্রেক বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি লাভ করলেও নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানদেরকে লক্ষ্য করে নিয়মিতভাবে আর্ম-বল প্রদান করে থাকেন। ঘরোয়া আসরে ব্যাট ও বলে দূর্দান্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে পানাদুরা স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে অভিষেক ঘটে। পানাদুরা এসসি’র সদস্যরূপে গল এসসি’র বিপক্ষে এ ধরনের বোলিং করে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঐ সফরে ব্যাট ও বল হাতে চমৎকার সাফল্য পান। এরপর, জিম্বাবুয়ে সফরে আরও একবার ‘এ’ দলের সদস্যরূপে সুন্দর ফলাফল করেন।
২০০৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে মুত্তিয়া মুরালিধরনের আঘাতের কারণে শ্রীলঙ্কা দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। তবে, কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। বেশ কয়েকটি ওডিআইয়ে অংশ নিলেও আশানুরূপ সফলতা পাননি। তবে, ঘরোয়া লীগে কলম্বো কোল্টসের পক্ষে দলের প্রধান খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
১৩ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৩০ রান তুলেছিলেন। ২০০৮ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া গমন করে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেন। দলে মুত্তিয়া মুরালিধরনের উপস্থিতি ও পরবর্তীতে রঙ্গনা হেরাথের অংশগ্রহণের কারণে দলে স্বীয় স্থান নিশ্চিত করতে পারেননি।
এরপর, ২০১১ সালে দলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ফিরে আসেন। কয়েকটি টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ৬ আগস্ট, ২০১১ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। এ পর্যায়ে মুত্তিয়া মুরালিধরনের অবসর গ্রহণের পর নিজ দেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। প্রথম খেলায় ৩/২৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।
প্রায় সাত বছর পূর্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। বল হাতে নিয়ে কেবলমাত্র একটি উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মনোমুগ্ধকর ৯৫ রান তুলেন। তবে, আজহার আলী’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তান দল ৫ উইকেটে জয় পেলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশের বিপক্ষে পরের টেস্টে অংশ নেন। মিরপুরে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ-উইকেট নিয়ে দলকে ইনিংস ও ২৪৮ রানের দ্বিতীয় বিশাল জয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকে রঙ্গনা হেরাথের সাথে জুটি গড়ে প্রভূতঃ সুনাম কুড়ান। ২০১৪ সালে গলেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভের প্রেক্ষিতে দলের জয় সহজতর হয় ও ২-০ ব্যবধানে শ্রীলঙ্কা দল সিরিজ জয় করে।
২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ২৪ জুলাই, ২০১৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ১২ ও ৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৬৯ ও ৩/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এ সিরিজে ১৬ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফিতে অজিদের বিপক্ষে টেস্টে দশ উইকেট দখল করেন। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৭০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪/২৯ পান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা তিন-খেলা নিয়ে গঠিত সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান তুলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব উইকেট লাভের পাশাপাশি দশ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। ঐ সিরিজে রঙ্গনা হেরাথের পাশাপাশি সব মিলিয়ে ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ সিরিজে শ্রীলঙ্কা দল বিজয়ী হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বর্ষসেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে নামাঙ্কিত হন। তবে, পরবর্তীতে দেশে-বিদেশের সিরিজে ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ৬ খেলা থেকে মাত্র ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। শুধুমাত্র অফ-স্পিন বলই দলের সাফল্যে অবদান রাখেনি; বরঞ্চ নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে নিয়েও কঠিন সময় মোকাবেলা করেছিলেন।
২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭২ ও ৫/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দিমুথ করুণারত্নের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৬৮ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার দ্রুততম ও সপ্তম বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। নিজস্ব ২৫তম টেস্টে এ সাফল্য পান ও বিখ্যাত বোলার মুত্তিয়া মুরালিধরনের চেয়ে দুই টেস্ট কম খেলে এ রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, ১১ টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার দ্রুততম বোলারের মর্যাদা পান।
২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে রঙ্গনা হেরাথের বিদায়ী খেলায় অংশ নেন। ৫/৭৫ ও ২/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২১ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বেন ফোকসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২১১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩/১১৩ ও ৫/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৪২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬৭ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/৮৬ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
