২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শিপলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নরফোকের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ব্রায়ান ক্লোজের অধিনায়কত্বে খেলে ইয়র্কশায়ারের জিলেট কাপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন।

নিজের সময়কালে অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে দারুণ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ক্যাচ তালুবন্দী করা বেশ সহজ ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে বল মুঠোয় পুড়তেন ও খুব কমই বল শূন্যে পুণরায় ফেলে দিয়ে আনন্দ উদযাপনে অংশ নিতেন। প্রায়শঃই স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থেকে দর্শকদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়ে পরিণত করতে বল পকেটে রেখে দিতেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সুযোগের সবটুকুই সদ্ব্যবহারে তৎপর ছিলেন। ১৯৬৩ সালে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ জুলাই, ১৯৬৩ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি অপরাজিত ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২৩ রান তুলেছিলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ডেরেক শ্যাকলটনের বলে গ্যারি সোবার্সের ক্যাচ তালুবন্দী করে স্বাগতিক দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। সব মিলিয়ে খেলায় দুইটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। ২১৭ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৮ ও ৪৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ডিক মোৎজের শততম টেস্ট উইকেট শিকারে পরিণত হন। ৮ উইকেটে সফরকারীরা পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৬৯ সালে লর্ডসে রে ইলিংওয়ার্থের বলে জন শেফার্ডের বিদেয়ে আরও একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এ প্রসঙ্গে উডকক মন্তব্য করেন যে, ‘সহজাত চমক।’ এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে তাঁর বিচ্যুতি সাজঘরে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার শামিল হিসেবে পরিবেশ সৃষ্টি করতো। ১৯৭৪ সালে বাথে হাটনের উপর্যুপরী বলে মার্ভিন কিচেনের ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন।

এছাড়াও, ১৯৭০ সালে ইংরেজ একাদশের সদস্যরূপে বাদ-বাকী বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। স্বল্পসংখ্যক টেস্টে অংশ নিলেও ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলে নিজেকে অমরত্বের দিকে নিয়ে যান।

১৯৬৫ সালে ‘ক্রিকেট ফর স্কুলবয়েজ’ শীর্ষক উপদেশমূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এছাড়াও, গায়ক ছিলেন। ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিক ঝুঁকে পড়েন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সময়কালে টেস্ট দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সুজান নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির ক্যাথরিন নাম্নী এক কন্যা ছিল। ১৯ মে, ২০১৪ তারিখে ৭৭ বছর ১৪৩ দিন বয়সে স্বল্পকালীন রোগে ভুগে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ব্যারি মিলবার্ন

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনের মাওরি হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি…

  • | |

    জো ডার্লিং

    ২১ নভেম্বর, ১৮৭০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন অসমন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যবসায়ী জন ডার্লিং ও ইসাবেলা দম্পতির ষষ্ঠ পুত্র ছিলেন। ১৮৮৩ থেকে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত মেলবোর্নভিত্তিক স্কচ কলেজে অধ্যয়ন করেন। এরপর, অ্যাডিলেডভিত্তিক প্রিন্স আলফ্রেড…

  • |

    ইজাজ আহমেদ, ১৯৬৯

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ইজাজ আহমেদ জুনিয়র’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক,…

  • | | | |

    চান্দু বোর্দে

    ২১ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। মাঝারিসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখলেও কার্যকর লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ভারত দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুনাতে বসবাসরত মারাঠী খ্রিস্টান পরিবারে তাঁর জন্ম। পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন নিয়ে গড়া বিশাল পরিবারের সদস্য তিনি। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা…

  • |

    ব্রেট লি

    ৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওলংগং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ‘বিং’ ডাকনামে ভূষিত ব্রেট লি ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৭ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সন্দেহাতীতভাবে অন্যতম গতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। ১৯৯৪-৯৫…

  • |

    সুরেশ পেরেরা

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস ক্লাব, সিংহলীজ…