২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হেয়ারউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
হেয়ারউডে জন্মগ্রহণ করলেও শিশুকালে পিতা-মাতার সাথে ওলেটন এলাকায় চলে যান। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন করেন। এখানেই তাঁর মাঝে ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক – উভয় বিভাগেই প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সাল পর্যন্ত প্রথম একাদশে খেলেন। ১৮৮১ সালে তাঁকে সেরা বিদ্যালয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ট্রিনিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন। মে, ১৮৮২ সালে ফেনার্সে এমসিসি’র বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮৮২ থেকে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত উপর্যুপরী চার বছর ব্লু লাভ করেন। চূড়ান্ত মৌসুমে দলের সম্মানসূচক সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালনের জন্যে মনোনীত হন। লাইট ব্লুজের পক্ষে ৩৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, ১৮৮৩ সালে লর্ডসে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় ১০২ রান তুলেছিলেন। খেলাগুলো থেকে ২২.৬৭ গড়ে ১২৪৭ রান তুলেছেন এবং ৪৪ ক্যাচ ও ২২ স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
১৮৮২ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ১৭৮তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন।
তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তেমন সফলতা পাননি ও তেমন ব্যর্থতারও পরিচয় দেননি। তবে, কতকগুলো অদ্ভূত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন। স্বল্প কয়েকজন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে হ্যান্ডেল্ড বলে বিদেয় নিতে বাধ্য হন। ১৮৯৩ সালে ব্রিস্টলে নটস বনাম গ্লুচেস্টারশায়ারের মধ্যকার খেলায় এ ঘটনা ঘটে। বল তাঁর প্যাডে আঘাত হানে ও তিনি তা হাতে নেন। ১৮৮২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরূপে সারের বিপক্ষে ব্যাটিংকালীন বেইল ফেলে দিলেও আম্পায়ারদ্বয় তা লক্ষ্য করেননি ও অপরাজিত থাকেন। ১৮৯০ সালে গ্রেভভেন্ডে অনুষ্ঠিত খেলায় নটসের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইনিংস ঘোষণা করেন। এ পর্যায়ে নটসের সংগ্রহ ছিল ১৫৭/৭। ১৮৯৪ সালে লর্ডসে নটস বনাম মিডলসেক্সের খেলায় ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে এক রান তুলতে এক ঘণ্টা ব্যয় করেন।
১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হ্যারি বাট, আর্থার হিল, অডলি মিলার, সি. বি. ফ্রাই, হিউ ব্রোমলি-ডেভেনপোর্ট, লর্ড হক ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করে জিমি সিনক্লেয়ারের বলে উভয় ইনিংসে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। স্মর্তব্য যে, ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সর্বনিম্ন ২৬ রান সংগ্রহের পূর্ব-পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৯৪ বলে মাত্র ৩০ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে।
এরপর, ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১০ জানুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের স্যাক্সেলবি পার্ক এলাকায় ৭২ বছর ২২৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
