১৮ আগস্ট, ১৮৭০ তারিখে চেশায়ারের কেপসর্থন হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
এটন কলেজে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনো করেছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত এটন একাদশের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই বছর দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সম্পর্কে উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, ১৮৮৭ সালে পাবলিক স্কুলের সেরা বোলার ছিলেন। ১৮৯২ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। হ্যারোর বিপক্ষে প্রথম দুই খেলায় পর্যাপ্ত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৮৮৬ সালে ১৫২ রান খরচায় নয় উইকেট ও পরের মৌসুমে ১১১ রান খরচায় আট উইকেট দখল করেছিলেন।
কেমব্রিজের ট্রিনিটি হলে অধ্যয়নকালে ১৮৯২ ও ১৮৯৩ সালে অধিনায়ক এফ. এস. জ্যাকসনের অধীনে থেকে ব্লুধারী হন। দ্বিতীয়বারের মতো অক্সফোর্ডের মুখোমুখি হলে ৫/১১ নিয়ে খেলায় রেকর্ড গড়েন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২৬৬ রানে জয় পায়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে নিজ কাউন্টিতে ফিরে যান। চেশায়ারের পক্ষে খেলেন। ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৮৯৩ সালে ওভালে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের অধিনায়কত্বে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে কে. এস. রণজিৎসংজী ও সি. বি. ফ্রাইয়ের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের সাথে একত্রে খেলেন। তবে, প্লেয়ার্স দল আট রানে নাটকীয়ভাবে জয় পায়।
১৮৯৬ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে আর. এস. লুকাসের অধীনে ও ১৮৯৭ সালে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে দুইবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। এছাড়াও, লর্ড হকের অধিনায়কত্বে ১৮৯৫-৯৬ ও ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ১৮৯৮ সালে টি. ওয়েস্ট্রের দলের সাথে পর্তুগাল সফরে যান।
১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হ্যারি বাট, আর্থার হিল, অডলি মিলার, সি. বি. ফ্রাই, চার্লস রাইট, লর্ড হক ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বোনর মিডলটনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৬ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সে লেফট্যানেন্ট পদবীধারী ছিলেন। ওবিই উপাধিতে ভূষিত হন। ২৩ মে, ১৯৫৪ তারিখে লন্ডনের সাউথ কেনসিংটন এলাকায় ৮৩ বছর ২৭৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
