|

ইকবাল সিদ্দিকী

২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ ও মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় অপূর্ব খেলেন। ভুসাবলে তামিলনাড়ুর বিপক্ষে ৬/৫৯ ও ৪/৭১ পান। ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে নিজের ছন্দ খুঁজে পান। টানটনে যুবদের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেন। ৫/৭৫ ও ৪/৮৮ লাভ করেন। তন্মধ্যে, মার্কাস ট্রেস্কোথিক, মাইকেল ভন ও অ্যান্থনি ম্যাকগ্রা তাঁর শিকারে পরিণত হন। ঐ সফরে ২৪ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে শীর্ষে আরোহণ করেন।

১৯৯০-এর দশক জুড়ে মহারাষ্ট্রের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ধারাবাহিকতার অভাবে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন হুমকির কবলে পড়ে। এক পর্যায়ে হায়দ্রাবাদে চলে যান। ইরানী কাপে দলের সদস্য হন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে পুনেতে স্বর্ণালী মুহূর্ত উদযাপন করেন। বরোদার বিপক্ষে ৭/৪৯ ও ৫/৩০ লাভ করেন। খেলায় ৭৯ রান খরচায় ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা বোলিং ছিল।

পরের মৌসুমে পুনেতে ওড়িষ্যার বিপক্ষে নাইট-ওয়াচম্যান হিসেবে মাঠে নামেন। ২৯২ বল মোকাবেলা করে ১১৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। পরবর্তীতে মৌসুমে পুনেতে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৭২ পান। পরের ইনিংসে আরও দুই উইকেট পেয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরে ক্রমাগত সফলতার কারণে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। জয়পুরে সফররত ইংরেজদের মুখোমুখি হন।

সুনীল জোশী ২৩৩/৯ তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে মার্ক বুচারকে বিদেয় করেন। দ্বিতীয়বার বোলিংয়ের সুযোগ পেলে ১২ বলের ব্যবধানে মাইকেল ভন, মার্ক রামপ্রকাশ ও অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ তাঁর শিকারে পরিণত হন। ৪/৫৩ নিয়ে স্বাগতিকদেরকে ৬৩ রানে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন। ক্রেগ হোয়াইটের দাপটে ভারত ‘এ’ দল ১০৯ রানে গুটিয়ে যায়। এবার মার্কাস ট্রেস্কোথিকের উইকেট পান। তবে, সফরকারীরা ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে পড়েন ও মোহালিতে সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্যে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০০১ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। টিনু যোহানন ও সঞ্জয় বাঙ্গারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৩২ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় একটি দর্শনীয় ক্যাচ তালুবন্দী করতে সমর্থ হন।

এছাড়াও, ২৪ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অনিল কুম্বলে’র দূর্দান্ত বোলিংনৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এক টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও বেশ কয়েকটি রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন। অনেকগুলো দিক দিয়ে কপিল দেবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশালাকার দৈহিক গড়ন, বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণের পাশাপাশি বলকে শূন্যে ফেলে সুইং করাতে সক্ষম ছিলেন ও পিচে বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ৯০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। অধিকাংশই ছিল মহারাষ্ট্রের সদস্যরূপে। সব মিলিয়ে ৩০.০৮ গড়ে ৩১৫ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, একটি শতরানের ইনিংসসহ ১৩৪৩ রান পেয়েছেন। পাশাপাশি, ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল…

  • |

    নিপার নিকোলসন

    ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯০৯ তারিখে ইংল্যান্ডের মিলম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়েছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    ধ্রুব জুরেল

    ২১ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে টেস্ট ও টি২০আই ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশ ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস ও ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক সাগ

    ১১ জানুয়ারি, ১৮৬২ তারিখে ডার্বিশায়ারের ইকেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ডার্বিশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল ইয়র্কশায়ারে পাড় করেছেন। চমৎকারভাবে ব্যাটিং বিনোদনে অগ্রসর হতেন। বিশেষতঃ ড্রাইভ মারতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন ও স্কয়ার…

  • | |

    টিম ও’ব্রায়ান

    ৫ নভেম্বর, ১৮৬১ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাথের ডাউনসাইড স্কুলে অধ্যয়নের পর নটিং হিলভিত্তিক সেন্ট চার্লস কলেজে পড়াশুনো করেন। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সময়কালে কেনসিংটন…

  • |

    রন স্যাগার্স

    ১৫ মে, ১৯১৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মারেকভিল পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বেশ পরিশ্রমী ছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে মারিকভিল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরূপে যোগ দেন। থার্ড গ্রেডের ক্রিকেটে…