৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গলার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বুফ’ ডাকনামে ভূষিত ড্যারেন লেহম্যান ১.৭৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।
পুরো ১৯৯০-এর দশক জুড়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে ছিলেন। জাতীয় দলে খেলার জন্যে তাঁকে দীর্ঘ নয় বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। ২০০১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে দ্বি-শতক হাঁকিয়েছিলেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্ট ও ১১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৩০ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্ণাঢ্যময় সূচনা করেন। এরপর, ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত সফরে যান। ২৫ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অ্যাডাম ডেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাইকেল কাসপ্রোভিচের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০০৩-০৪ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। পুরো সিরিজে ব্যাট-বল হাতে নিয়ে বেশ দাপট দেখান। ৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৬৩ ও ১২৯ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ম্যাথু হেইডেনের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৯৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ মার্চ, ২০০৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১ ও ১৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৫০ ও ৩/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ সাফল্যে সফরকারীরা ১২১ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেড সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় দিনে খেলার প্রথম ইনিংসে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের (২১৫) সাথে ১৮৪ রানের জুটি গড়েন। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের এ জুটিটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ছিল। এরফলে, ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে পার্থে এমই ওয়াহ–এসআর ওয়াহ’র মধ্যকার ১৫৩ রানের জুটির সংগ্রহটি ম্লান হয়ে যায়। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা খেলায় ২১৩ রানে পরাজয়বরণসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। তবে, ওডিআইয়ে নিয়মিতভাবে রান পেয়েছেন। নয় বছরব্যাপী খেলোয়াড়ী জীবনে ১১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। মাঠে স্বল্পকাল অবস্থান করলেও ১৯৯৯ সালের প্রতিযোগিতায় দলের জয়সূচক রান তুলেছিলেন।
এছাড়াও, ইয়র্কশায়ারের পক্ষে বেশ কিছু খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে ইয়র্কশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। ২০০০ সালে ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি জয় করেন। ২০০২ সালে ইয়র্কশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ড্যামিয়েন মার্টিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে প্রায় ৪৫ গড়ে রান পেয়েছিলেন। বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ২০০৭ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনকে বিদেয় জানান। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে যোগ দেন ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন।
পরবর্তীতে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০০৯ সালে আইপিএলে ডেকান চার্জার্সের কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। প্রথমবারের মতো কোচের দায়িত্ব নিয়ে দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। তবে, অ্যাশেজ সিরিজের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো ৫-০ ব্যবধানে জয়লাভের বিষয়টি কোচ হিসেবে তাঁর সর্বাপেক্ষা বড় ধরনের অর্জন ছিল। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান কোচ ছিলেন। মিকি আর্থারের স্থলাভিষিক্ত হন ও পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন। ২০১৯ সালে নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালনের জন্যে মনোনীত হন। এর পূর্বে ব্রিসবেন হিটের কোচ ছিলেন।
২০০১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে উইজডেন অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জ্যাক লেহম্যান নামীয় সন্তানের জনক এবং ক্রেগ হোয়াইট সম্পর্কে তাঁর শ্যালক।
