|

বাপু নদকর্ণী

৪ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

আন্ডারওয়্যারের পরিবর্তে কটিবস্ত্র পরিধান করতেন। ফলশ্রুতিতে, মহাত্মা গান্ধী’র ব্যবহৃত বস্ত্রের অনুসরণে ‘বাপু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভারত দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। নিখুঁত বামহাতি স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও বেশ ভালো করেছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

রোহিতন বাড়িয়া ট্রফিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এ পর্যায়ে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। পরের বছর মহারাষ্ট্রের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুই বছর পর বোম্বের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। ঐ খেলায় ১০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ উইকেট জুটিতে সদাশিব পাতিলের সাথে ১০৩ রান যুক্ত করেছিলেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে ৪১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। গুন্দিবাল সুন্দরমের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১৩২ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৮ রান সংগ্রহ করে দলীয় ইনিংসকে স্ফীততর করে তুলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ওভারপ্রতি সর্বনিম্ন ১.৬৭ রান প্রদানের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এছাড়াও, ৩২-২৭-৫-০ বোলিং বিশ্লেষণ গড়েছেন। তন্মধ্যে, একাধারে ২১বার মেইডেন ওভার পেয়েছেন। তবে, এ ধরনের সাফল্য খেলোয়াড়ী জীবনে তেমন প্রভাব ফেলেনি। ২৯.০৭ গড়ে ৮৮ উইকেট পেয়েছেন। কেবলমাত্র বিষেন বেদীসুভাষ গুপ্তে বোলিং গড়ে তাঁর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। প্রতিপক্ষের মাটিতে ভারত তাদের প্রথম জয় পায়। বিষেন বেদী ও ইরাপল্লী প্রসন্ন তাঁর তুলনায় অধিক উইকেট পেলেও ১৭.৯২ গড়ে ১৪ উইকেট নিয়ে বোলিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। ১৮৫.৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৫১ রান খরচ করেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৩১ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ওয়েলিংটনে শুরু হওয়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/৯১। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৪৩ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা বোলিং করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয়ী হলে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই সফরের ৭ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৬ ও ১/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ২৭২ রানে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। বিস্ময়করভাবে দেশে ফিরে ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যাটসম্যান হিসেবেও দারুণ খেলা উপহার দিয়েছেন। টেস্টে একটি শতক হাঁকানোসহ ২৫.৭০ গড়ে রান পেয়েছেন। একই টেস্টে শতক ও অর্ধ-শতক পেলেও অপরাজিত ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে প্রায় নয় সহস্রাধিক রান তুলেছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১ গড়ে ঠিক ৫০০ উইকেট পেয়েছেন। পাশাপাশি দূর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখেন। মুম্বই দলের নেতৃত্বে থেকে উপর্যুপরী তিনটি শিরোপা এনে দেন।

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে বিসিসিআই কর্তৃক সম্মাননাপ্রাপ্তির কথা শুনে বিস্মিত হন। ১১ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সপ্তম বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে অপর দু্ই ভারতীয় তারকা – ইংল্যান্ডে বসবাসরত ফারুক ইঞ্জিনিয়ারএকনাথ সোলকারের সাথে ক্রিকেটে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হন। ৮০ বছর বয়সী বাপু নদকর্ণী এ প্রসঙ্গে পিটিআইকে বলেন যে, ‘আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি যে বোর্ড আমাকে সম্মানিত করবে। তবে, এ সম্মাননা বেশ দেরীতে ঘোষণা করা হয়েছে। তাসত্ত্বেও, আমার ক্ষুদ্র অংশগ্রহণের স্বীকৃতিতে আমি বেশ খুশী।’ পুরস্কার হিসেবে ট্রফি ও ₹১৫ লক্ষ রূপীর চেক পাবেন।

Similar Posts

  • | | | |

    বান্দুলা বর্ণাপুরা

    ১ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে রাম্বুক্কানায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কার্যকর মিডিয়াম-পেস বোলার ছিলেন। শ্রীলঙ্কা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে…

  • | |

    গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন

    ২৬ মে, ১৯৬৬ তারিখে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন…

  • | |

    মার্ভ হিউজ

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইউরোয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ম্যাড মার্ভ’, ‘সুমো’ কিংবা ‘ফ্রুটফ্লাই’ ডাকনামে ভূষিত মার্ভ হিউজ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন।…

  • |

    জিহান মুবারক

    ১০ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খাঁটিমানসম্পন্ন দর্শনীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান। কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে খেলছেন। তাঁর পিতা ড. এ.এম. মুবারক বিজ্ঞানী ছিলেন। শ্রীলঙ্কায়…

  • |

    ভরত রেড্ডি

    ১২ নভেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের বিদ্যালয় দলের নেতৃত্বে থেকে বেশ সফলতার…

  • | | |

    জিওফ হাওয়ার্থ

    ২৯ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অপর ভ্রাতা হ্যাডলি হাওয়ার্থ নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে…