| | |

আশীষ নেহরা

২৯ এপ্রিল, ১৯৭৯ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী ভারত দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশীয় একাদশ, চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, পুনে ওয়ারিয়র্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অনবদ্য ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। রঞ্জী ট্রফিতে দিল্লি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতেন। প্রচলিত রয়েছে যে, বীরেন্দ্র শেহবাগ চলে যাবার পর তিনি অনুশীলন কর্মে যোগ দিতেন।

১৯৯৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্ট, ১২০টি ওডিআই ও ২৭টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে ১/৯৪ লাভ করেছিলেন। মারভান আতাপাত্তু তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

এরপর, ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২৪ জুন, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি ২/৩৩ লাভ করে সফরকারী দলের খুব সহজে ৯ উইকেটের ব্যবধানে জয়লাভে ভূমিকা রাখেন। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকে বিদেয় করে তিনি তাঁর প্রথম ওডিআই উইকেট পান।

২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ২০০২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার পঞ্চম দিন শেষ উইকেটে অজিত আগরকরকে (১০৯*) সাথে নিয়ে ৬৩ রান যুক্ত করেন। এ পর্যায়ে এ মাঠে ১৯৪৬ সালে আরএস মোদি ও এসজি শিন্দের মধ্যকার দশম উইকেটে সংগৃহীত ৬৩ রানের জুটি ম্লান হয়ে যায়। খেলায় তিনি ০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০১ ও ২/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের (১৫৫) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর উত্থান পর্ব শুরু হয়। ঐ প্রতিযোগিতায় কিছু দারুণ বোলিং করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ৬/২৩ বোলিং করেন ও বলকে উভয়দিক দিয়েই সুইং করাতে সক্ষমতা দেখান। গোড়ালীর আঘাত থেকে সেড়ে উঠে আরও দারুণ খেলা উপহার দেন। এ খেলাটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হয়ে যায়।

ক্রমাগত আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বকাপের পর বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নিতে পারেননি। দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতে থাকেন। প্রায় ১৮ বছর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান থাকলেও ভারতের পক্ষে সব ধরনের আন্তর্জাতিকে মাত্র ১৬৪ খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১৩ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৬০ ও ১/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রাহুল দ্রাবিড়ের অসামান্য ক্রীড়াশৈলীর কারণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩১ রানে জয় তুলে নেয় এবং তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে পাঁচটি ভিন্ন দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ২০০৮ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলার পর দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে পরবর্তী দুই মৌসুম খেলেন। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণেই মূলতঃ তাঁকে বারবার দল পরিবর্তন করতে হয়েছেন। অধুনা বিলুপ্ত পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার পক্ষে পরবর্তী দুই বছর খেলেন। এরপর আবারও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে এক বছর খেলেন। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে, দুই বছরের জন্যে দলটি আইপিএলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে চলে যান। সেখানে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে খেলেন।

১ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর ধারাভাষ্যকর্মের সাথে নিজেকে জড়ান। স্টার স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার দলের সদস্য তিনি। পরবর্তীতে, আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের বোলিং কোচ হিসেবে যুক্ত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। রুশমা নেহরা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • |

    ফ্রাঙ্ক কিং

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের ডেলামেরে ল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। প্রধানতঃ নতুন বল নিয়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। প্রথমদিকের কয়েকটি সিরিজে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী…

  • |

    আসেলা গুণরত্নে

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। রাহুলা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কা আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব,…

  • |

    ব্লেয়ার হার্টল্যান্ড

    ২২ অক্টোবর, ১৯৬৬ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা ইয়ান হার্টল্যান্ড একই দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট…

  • |

    ড্যাস্টি ট্যাপস্কট

    ৭ নভেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের বার্কলি ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে…

  • |

    অ্যান্ড্রু জোন্স

    ৯ মে, ১৯৫৯ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেড’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ দেরীতে ক্রিকেট জগতে পদার্পণ ঘটে তাঁর। প্রশিক্ষণ বহির্ভূত নিজস্ব ঘরানায় ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনে অগ্রসর হতেন। শর্ট বলে লাফিয়ে মোকাবেলা করে নিচেরদিকে নিয়ে…

  • |

    বিল ও’রিলি

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের হোয়াইট ক্লিফসে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা লেগ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন। স্পিন বোলিংয়ের তুলনায় ফাস্ট বোলিংয়ে নিজেকে অধিক সামলিয়ে নিতে পেরেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলীয় লেগ-স্পিনার হিসেবে বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন। অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার হিসেবে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে…