আব্দুর রেহমান

১ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ক্রিকেট বলকে বিরাটভাবে বাঁক খাওয়াতে না পারলেও নিখুঁততা বজায় রেখে ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শুধুমাত্র যে ঘরোয়া পর্যায়েই সফল ছিলেন তা নয়; বরঞ্চ আন্তর্জাতিক পরিসরেও তা ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে গুজরানওয়ালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও শিয়ালকোট এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পেশাওয়ার জালমি, পাঞ্জাব স্ট্যালিয়ন্স ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৯ সাল থেকে তাঁর উত্থান পর্ব শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে উপর্যুপরী খেলায় পাঁচ ও ছয়-উইকেট লাভ করেছিলেন। মাত্র কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও দলের সদস্য হন। ঘরোয়া আসরের প্রতিযোগিতায়ও উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষতঃ ২০০৬-০৭ মৌসুমে পেন্টাগুলার কাপে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের মর্যাদা পান। তন্মধ্যে, হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে ১১ উইকেট দখল করেন।

২০০৬ থেকে ২০১৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট, ৩১টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৬ বছর বয়সে ৭ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ফয়সালাবাদে বেশ পরিপক্ক অবস্থায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই দলের সদস্যরূপে প্রথম খেলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি খুব কম সুযোগ পেয়েছিলেন। এ পর্যায় স্পিননির্ভর দল গঠনের পাশাপাশি টেস্ট খেলাগুলোয় ব্যাটসম্যান হবার বিষয়টি জড়িত ছিল।

টেস্ট অভিষেক পর্বটি দূর্দান্ত ছিল। ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে আট উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৬০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, আর একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার পর তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। ২০১০ সালে দলে প্রত্যাবর্তনের পর দুইজন স্পিনারকে নিয়ে টেস্ট দলে নিজেকে আরো স্থায়ীভাবে খেলার দিকে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হন। এ স্থানের উপযোগী করে তুলতে মাত্র একাদশ টেস্টেই ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

২০১০-১১ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৩/৫১ ও ৩/২৪ লাভ করেন। এছাড়া, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১২ সালে ইংল্যান্ডকে জবুথবু করে ফেলতে যথাযথ ভূমিকা রাখে। তৎকালীন বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬.৭৩ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান দল প্রথমবারের মতো ধবল ধোলাই করতে সক্ষম হয়।

ঐ বছরের শেষদিকে সমারসেট ক্লাবে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। টানটনে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৯/৬৫ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। তবে, মাদক পরীক্ষায় নেতিবাচক ফলাফল আসলে তাঁকে ১২ সপ্তাহের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়েছিল।

২০১৪ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/৫৩ ও ২/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৫ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১০ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • |

    ফারভিজ মাহারুফ

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদেহী, লিকলিকে ও উন্মুক্ত বক্ষের অধিকারী ডানহাতি ফাস্ট বোলার। অফ-স্ট্যাম্প বরাবর বল ফেলাসহ বলকে বাঁক খাওয়ানোর কারণে নিজেকে বিপজ্জ্বনক বোলারে পরিণত করেছিলেন। ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়ে বোলিং…

  • মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নাগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর, শর্ট কভার অঞ্চলে ফিল্ডিং করেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মাঝারিসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান ও কার্যকর বামহাতি স্পিনার। কালুতারা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্যতায় পরিপূর্ণ…

  • | |

    ভিভিএস লক্ষ্মণ

    ১ নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভেরি ভেরি স্পেশাল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। লিটল ফ্লাওয়ার হাই স্কুল ও সেন্ট জোন্স স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • |

    টেড ম্যাকডোনাল্ড

    ৬ জানুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর্থার ম্যাকডোনাল্ড ও জেন দম্পতির সন্তান ছিলেন। চার্লস স্ট্রিট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী পেস ও যোগ্যতাসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। চাকচিক্যভাব, সৌন্দর্য্যতা…

  • |

    আলী হুসাইন রিজভী

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান কাস্টমসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের…

  • | |

    মহিন্দার অমরনাথ

    ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ তারিখে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। খেলায় অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রায়শঃই সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতেন; আবার খুব সহজেই সবচেয়ে বাজে ব্যাটসম্যানেরও তকমা পেয়েছেন। দলের সঙ্কটকালে ব্যাট হাতে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলতেন। পাশাপাশি…