|

ওয়াল্টার লিস

২৫ ডিসেম্বর, ১৮৭৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের সোয়ার্বি ব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

অনেক ইয়র্কশায়ারীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে নিজ কাউন্টির বাইরে খেলে বেশ সফল হয়েছিলেন। অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে নটিংহামে প্রথমবারের মতো খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, খেলার দিন সকালে দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁকে বাদ দেয়া হয়। এরপর, আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি। তাঁর খেলার মান নিয়ে কোনরূপ প্রশ্ন উঠেনি। তবে, শ্রেয়তর ব্যাটিংয়ের কারণে আর্নল্ডের সাথে তাঁকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কবলে পড়তে হয়েছিল। ১৮৯৬ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ৩০ বছর বয়সে ১৯০৫ সালে এসেও সেরা ছন্দে ছিলেন। আকস্মিকভাবে নিজেকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যান। পুরো গ্রীষ্মেই চমৎকার ও ধারাবাহিকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ১৯১২ সময়কালে খেলেছিলেন।

১৮৯৬ সালে সারের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন শুরুর পর থেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বেশ মারমূখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। যে-কোন ধরনের বোলিং রুখে দিয়ে দ্রুতলয়ে ত্রিশ বা তদূর্ধ্ব রান সংগ্রহে তৎপর থাকতেন।

১৯০৬ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্নি হেইস, ফ্রেডরিক ফেন ও জ্যাক ক্রফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৫/৩৪ ও ৩/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১৮-এর অল্প বেশী গড়ে ১৯৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ সময়ে অত্যধিক রান সংগ্রহের খেলায় এ ধরনের গড় বেশ তাৎপর্য্য বহন করে। ১৯০৪ সালে শেষ মৌসুমে এসেও নিজেকে চমৎকার বোলারের কাছাকাছি অবস্থানে রেখেছিলেন। কিন্তু, সারে দলে তাঁর ন্যায় অন্য কারও কাছ থেকে পর্যাপ্ত সফলতা পাননি। তাঁকে ছাড়া দল জয়লাভ করতে পারতো না। তেরোটি খেলায় পরাজিত হলও তিনি ২৫-এর কম গড়ে ১১৪ উইকেট দখল করেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে তেমন রানের সন্ধান পাননি। বোলিংও বেশ নিম্নেরদিকে চলে যায় ও বোলার হিসেবে অকার্যকর হয়ে পড়েন।

১৯০৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ তারিখে কো ডারহামের ওয়েস্ট হার্টলপুল এলাকায় মাত্র ৪৮ বছর ২৬০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | | |

    এরিক ফ্রিম্যান

    ১৩ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সেমাফোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ফ্রিটজ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    নীল র‌্যাডফোর্ড

    ৭ জুন, ১৯৫৭ তারিখে নর্দার্ন রোডেশিয়ার লুয়ানশিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলত বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী নীল র‍্যাডফোর্ড জোহানেসবার্গভিত্তিক অ্যাথলোন বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে…

  • | | |

    জ্যাক ক্যালিস

    ১৬ অক্টোবর, ১৯৭৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পাইনল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। হেনরি ক্যালিস ও মার্সিয়া ক্যালিস দম্পতির সন্তান ছিলেন। ওয়েনবার্গ বয়েজ…

  • |

    মোহাম্মদ রফিক

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে অপূর্ব দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিখুঁতভাব বজায় রেখে ছন্দোবদ্ধ ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। ‘মো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    রন হামেন্স

    ২৫ নভেম্বর, ১৯১৫ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হিন্ডমার্শ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটারের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। জানুয়ারি, ১৯৩১ সালে অ্যাডিলেডে এ-স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন। এরফলে, ১৫ বছর ৬৭ দিন বয়সে…

  • আসাদ শফিক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড,…