|

চন্দ্রশেখর গড়কড়ি

৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও সার্ভিসেস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচের ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও প্রতিভাবান ফিল্ডার ছিলেন। কিন্তু, সামরিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের কারণে ভারত দলে তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। চল্লিশের দশকের শেষদিক থেকে ষাটের দশের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সার্ভিসেস ক্রিকেট দলের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর চমৎকার সফলতা রয়েছে। ৪০ গড়ে সাত শতক সহযোগে ৩০২৪ রান করছেন ও ৩১ গড়ে ৪৮ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে, রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ গড়ে ২১৩৩ রান তুলেছেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। পাশাপাশি, সামরিক জীবনের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ থেকে ফিল্ডিংয়ের মানকে প্রত্যাশার চেয়েও ঊর্ধ্বে নিয়ে যান।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনটি ও ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে বাকীগুলো খেলেন। সাধারণমানের সফলতার সন্ধান পেয়েছেন। ২১.৫০ গড়ে ১২৯ রান তুলেছেন।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২১ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকে ৭ ও ১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে টেস্ট ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৭০ মিনিটে ২৭৪ রান ধার্য্য করা হয়। এছাড়াও, ০/১২ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় এগুতে থাকে।

গায়ানার জর্জটাউনে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ১৮৩/৭ হলে নয় নম্বরে নেমে দায়িত্বশীল ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহারের মাধ্যমে দলের সংগ্রহকে ২৬২ করাতে সক্ষম হন। দূর্ভাগ্যবশতঃ সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান।

এরফলে, দুই বছর পর তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ছেদ ঘটে। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে বিনু মানকড়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, তাঁকে আর টেস্ট দলে খেলতে দেখা যায়নি।

এছাড়াও, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে এসজেওসি দলের বিপক্ষে দুইটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তেমন সফলতা না পেলেও ঘরোয়া আসরে বেশ সরব ছিলেন। পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে ৫৬ গড়ে ১৫৬৯ রান তুলেন। কিন্তু, সামরিক দায়িত্ব পালনেও তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল।

১১ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে ৬৯ বছর ৩৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ম্যাথু হার্ট

    ১৬ মে, ১৯৭২ তারিখে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সময়কালে…

  • |

    টাইরেল জনসন

    ১০ জানুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে ত্রিনিদাদের টুনাপুনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ লম্বাটে ও শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ক্ষীপ্রতা সহকারে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, প্রয়োজনে কার্যকর ইন-সুইং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…

  • | |

    জর্জ হ্যাডলি

    ৩০ মে, ১৯০৯ তারিখে পানামার কোলনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পানামার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম। ১৯১৯ সালে মাতা তাঁর জন্মস্থান জ্যামাইকায় তাঁকে প্রেরণ করেন। তাঁকে ইংরেজী ভাষী বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর হয়। সেখানেই…

  • | |

    হনুমন্ত সিং

    ২৯ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের বাঁসারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের আরও একজন রাজপুত্র হিসেবে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দিলীপ সিংয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র ও ইন্দ্রজিৎসিংজী’র কাকাতো ভাই ছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম…

  • | | |

    নামি ডিন

    ২১ জুলাই, ১৮৯৫ তারিখে জুলুল্যান্ডের এশোই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ও কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পয়েন্ট, সিলি-পয়েন্ট, মিড-অন ও শর্ট-লেগের ন্যায় কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন। আকর্ষণীয় ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। উইকেটে…

  • | |

    জাভেদ আখতার

    ২১ নভেম্বর, ১৯৪০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী অফ-স্পিনার ছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…