১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের ডেলামেরে ল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। প্রধানতঃ নতুন বল নিয়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। প্রথমদিকের কয়েকটি সিরিজে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। তবে, এ পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি ও এক পর্যায়ে নিষ্প্রভ হয়ে পড়েন। সহজাত প্রকৃতির আগ্রাসী বোলার ছিলেন। নিয়মিতভাবে বাউন্সার প্রয়োগ করতে ভালোবাসতেন। কখনোবা মাত্রাতিরিক্ত বাউন্সার ছুঁড়তেন। টেস্ট খেলা চালিয়ে যেতে থাকলেও উইকেটের সন্ধান পাওয়া আরও দুরূহ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। আঘাতও এতে ভূমিকা রাখে। মাংসপেশীতে টান অব্যাহত থাকে।
তুলনামূলকভাবে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অধিকতর ও সফলতম ছিল। তবে, স্বীয় সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ী জীবনকে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আল্ফি বিন্স ও ব্রুস পেয়ারডু’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৭৫ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে সুভাষ গুপ্তে’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় এগুতে থাকে।
১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। তবে, বল হাতে নিয়ে ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৩ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ইংল্যান্ডের বেস্কট এলাকায় ৬৪ বছর ৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
